ইরসাইলের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে সাবেক এক নারী কারারক্ষীকে 'যৌন দাসী' হিসাবে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ এসেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার (৩১ জুলাই) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড ওই কারারক্ষীর অভিযোগের তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গিলবোয়া কারাগারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তিনি বারবার ফিলিস্তিনি এক বন্দী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সোমবার এ এখবর জানা গেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে।
গিলবোয়া কারাগারে নারী কারারক্ষীরা বন্দীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, এমন প্রতিবেদন বেশ কয়েক বছর ধরে ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে।
কারাগারটির অব্যবস্থাপনা গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে। যখন ছয়জন ফিলিস্তিনি বন্দী ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের সেল থেকে সুড়ঙ্গ করে গিলবোয়া থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করে।
গত বছর কিছু ইসরাইলি মিডিয়া গিলবোয়াকে 'দেহ ব্যবসার আঁখরা' হিসেবে অবিহিত করে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, কারাগারের পুরুষ তত্ত্বাবধায়করা মহিলা কারারক্ষীদের এমন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিতেন যে সেখানে তারা বন্দীদের দ্বারা আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকতো।
এদিকে গত সপ্তাহে এক সাবেক নারী গিলবোয়া গার্ড অনলাইনে পোস্ট করেছেন যে, তিনি ওই কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দী দ্বারা বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
ওই ভুক্তভোগী বলেন, "আমি ধর্ষণের শিকার হতে চাইনি, বারবার সহিংসতার মুখোমুখি হতে চাইনি।
তিনি জানান, তাকে তার ঊর্ধ্বতনরা ওই ধর্ষকের 'হস্তান্তর' করেছিলে এবং ওই ধর্ষকের "ব্যক্তিগত যৌনদাসী" হয়ে থাকতে বাধ্য করেছিল।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড রোববার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, একজন সৈনিক তার চাকরিক্ষেত্রে একজন সন্ত্রাসী দ্বারা যদি ধর্ষিত হয়, তবে তা সহ্য করা যায় না। এই অবশ্যই তদন্ত করা হবে। আমরা নিশ্চিত করব যে ওই সৈনিক ন্যায্যতা পাবে।
রোববার এক পৃথক বিবৃতিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ওমের বারলেভ বলেছেন, কয়েক বছর আগে গিলবোয়া কারাগারে যে ঘটনা ঘটেছিল তা "ইসরায়েলি জনসাধারণকে হতবাক করে ফেলেছে। প্রকাশিত ঘটনাগুলো আমি পড়েছি এবং কেবল হতবাক হয়েছি।
একাত্তর/এসএ
