ক্রিমিয়ার সাথে রাশিয়াকে সংযোগকারী একমাত্র সেতুটি বিস্ফোরণে আংশিক ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রাশিয়া।
রোববার (৯ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সারভিসকে (এফএসবি) এই সেতুটি তদারক করার নির্দেশ দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এর আগে, শনিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রেলসেতু ও সড়ক সেতুটিকে যান চলাচলের জন্য আংশিকভাবে খুলে দেয়া হয় বলে জানায় রাশিয়া।
২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলের প্রতীক এই কার্চ সেতু। শনিবারের বিস্ফোরণে এখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির মেরামত কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটির ধ্বংস হয়ে যাওয়া অংশ অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। পানির নিচে অবস্থিত অংশের ক্ষতি নিরূপণ করতে রোববার সকাল থেকে কাজ করবে ডুবুরিরা।
ক্রিমিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ান গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ সাংবাদিকদের বলেছেন, পরিস্থিতি সামালানো সম্ভব। অবস্থা অপ্রীতিকর হলেও মারাত্মক নয়।
তিনি জানিয়েছেন, ক্রিমিয়া উপদ্বীপে এক মাসের মতো জ্বালানি ও দুই মাসের খাবার মজুদ রয়েছে। বিদ্যমান স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে ক্রিমিয়ায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
কার্চ সেতুকে 'শতাব্দীর সেরা নির্মাণ' বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়ার গণমাধ্যম। ইউক্রেনে সামরিক রসদ সরবরাহ করতে এটি রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইউক্রেনের দক্ষিণে খেরসন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাশিয়ান সেনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রিমিয়া সেতু আংশিক সচল: রাশিয়া
যেহেতু যুদ্ধে এই সেতুর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে, সুতরাং ক্রিমিয়া পুনর্দখলের জন্য এটি একটি ন্যায্য লক্ষ্যবস্তু বলে মন্তব্য করেছে ইউক্রেন।
অবশ্য, এই সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রশংসা করলেও এর জন্য ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দায়ী কিনা সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন।
একাত্তর/এসজে
