উত্তর জার্মানিতে ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নের কারণ ছিল 'ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপ'। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে জার্মানির রেল পরিচালনাকারী কোম্পানি ডয়েচে বান।
সংবাদমাধ্যম ডয়েছে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণেই গতকাল শনিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির দূরপাল্লার ট্রেনসহ অধিকাংশ ট্রেন প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার বলেছেন, দুটি স্থানে রেলের তার বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে রেল পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
জার্মান রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা জানা যায়নি। সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারীরা অবশ্য বলেছেন, রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তারগুলো বার্লিনের বাইরের একটি স্থানে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় অন্য একটি স্থানে কাটা হয়েছিল।
পরিবহন মন্ত্রী ভলকার উইসিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে তারগুলো কেটে দেয়া হয়। এটা স্পষ্ট যে এটি একটি নাশকতামূলক পদক্ষেপ ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের অবকাঠামোগুলোর ওপর সম্ভাব্য নাশকতামূলক হামলার ঝুঁকি কমাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।
এর আগে শনিবার, "লাইনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি" রয়েছে উল্লেখ করে উত্তর জার্মানির বড় অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: তেল চুরিতে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ দস্যুর মতো: সিরিয়া
কয়েক ঘন্টা পর জানা যায়, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত বিদ্যমান নর্ড স্ট্রিম পাইপ লাইনে বিস্ফোরণ এবং চলতি সপ্তাহে ক্রিমিয়া ব্রিজের বিস্ফোরণের পর ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
