দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হ্যালোইন উদযাপনের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে অন্তত ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় পদদলিত হয়ে আহত হয়েছে আরও দেড় শতাধিক মানুষ।
সিউলের ইয়ংসান ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রধান চোই সিওং-বিওম জানান, শনিবার রাতের এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শুরুতে চোই জানিয়েছিলেন, নিহতদের মধ্যে ৭৪ জনের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ৪৬ জনের মরদেহ রাস্তায় পড়ে আছে।
পরে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫১ জনে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিউলের ইতায়েওন জেলায় অন্তত ৫০ জনকে সিপিআর দিয়েছে অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ। সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন হল একটি জরুরি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত রক্ত সঞ্চালন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য দেয়া হয়। ধারনা করা হচ্ছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের ইটাওয়ান এলাকায় প্রচুর জনসমাগম। সেখানে জরুরি পরিষেবার মাধ্যমে রাস্তায় অজ্ঞান ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল ওই এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এরইমধ্যে সেখানে ৪০০ জনেরও বেশি জরুরি কর্মী এবং ১৪০ জন উদ্ধারকারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এ সময় কমপক্ষে ৮১ জন ব্যক্তির "শ্বাসকষ্ট" -এর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবি ও ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, রাস্তায় কয়েকটি 'বডি ব্যাগ' পড়ে আছে। সাধারণত মৃতদেহ বহনে এ ব্যাগ ব্যবহার হয়।
এ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, করোনা মহামারীর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর এই প্রথম ওই এলাকায় হ্যালোইন উদযাপনের আয়োজন করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই জানিয়েছিলেন, এলাকাটি এত জনাকীর্ণ ছিল যে এটিকে অনিরাপদ মনে হয়েছিল তাদের।
একাত্তর/আরবিএস
