উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক মিসাইল পরীক্ষার প্রেক্ষিতে দেশটির তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন ইল হো, ইয়ু জিন ও কিম সু গিল এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে 'বড় ভূমিকা পালন করেছেন' বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বছর ৬০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে পিয়ংইওং- যা এক বছরে মিসাইল উৎক্ষেপণের রেকর্ড। এছাড়াও বেশ কয়েকটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে তারা।
এরই প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানা গেছে।
বহু বছর ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার খড়গের নিচে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। তিন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এছাড়াও কোনও মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করতে পারবেন না তারা।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আজকের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে নেয়া হয়েছে এবং এটি উত্তর কোরিয়ার বৈশ্বিক হুমকির ক্ষেত্রে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'পিয়ংইয়ংয়ের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণের গতি, আকার ও সুযোগের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা উন্নীত করতে এসব পদক্ষেপ আমাদের দৃঢ় সংকল্পকে আরও জোরদার করে'।
উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ মিসাইল পরীক্ষা চালায় গত ১৮ নভেম্বর। সেটির পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট ছিল বলে জানিয়েছিলেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। তারা সপ্তম পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া একটি ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে। সেইসাথে স্বল্প পাল্লার মিসাইল ও প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে উত্তর কোরিয়া কাজ করছে বলেও অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ অবসানে পুতিনের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত বাইডেন
কিম জং-উনের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে আরও দৃঢ়সংকল্প হয়ে উঠেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির অস্ত্র কার্যক্রম ও সর্বশেষ চারটি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে কিছু মার্কিন বিশ্লেষকের বিশ্বাস, পশ্চিমাদের এসব নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রতীকী অর্থ বহন করে এবং এগুলো পিয়ংইয়ংয়ের আচরণের কার্যত কোনও পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়নি।
একাত্তর/এসজে
