রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একে অপরকে দোষারোপে কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ২০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাশিয়া ও চীন যুদ্ধের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানানোয় যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক। খবর: আলজাজিরা।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউক্রেন সংকটের জন্য আগের মতোই রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে মস্কোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পশ্চিমারা। সে কারণেই ইউক্রেনকে তারা সশস্ত্র করেছে, এর ফলেই এ যুদ্ধ।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব নেতৃত্বকে বিভাজন দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গ্রুপ অব ২০ (জি২০) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে গতকাল অল্প সময় কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্লিঙ্কেন ল্যাভরভকে বলেছেন, ইউক্রেনকে যতক্ষণ প্রয়োজন আত্মরক্ষার জন্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।
এর আগে, বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুদ্ধসহ নানা সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন মোদি। রেকর্ডকৃত এক ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের অনুযায়ী আর্থিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ আর যুদ্ধ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে বিশ্ব শাসন ব্যর্থ।
ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াপকে হোয়েকস্ট্রা বৈঠকের ফাঁকে বলেছেন, এই যুদ্ধের জন্য একমাত্র রাশিয়াই দায়ী।
আর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা বলেছেন, প্রায় প্রতিটি দেশের জন্য নেতিবাচক পরিণতির জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
বৈঠকের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, লিঙ্গ সমস্যা, নতুন উদীয়মান প্রযুক্তি ইত্যাদিসহ অনেক বিষয়ে চুক্তি সই করেছে ২০ দেশের প্রতিনিধি দল।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র দিলে চীনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্য মিত্রদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও করেছে দেশটি। যদিও এসব আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চার মার্কিন কর্মকর্তা। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো নিষেধাজ্ঞার জন্য বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর জোট জি৭–এর সমর্থন আদায়ই এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
ইউক্রেনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ‘চরম আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। বেইজিংয়ে সাক্ষাতের পর রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুই দেশের নেতা যৌথ বিবৃতিতে এ আগ্রহের কথা জানান।
আরও পড়ুন: নিউ স্টার্ট চুক্তি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলো রাশিয়া
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির রাজনীতিকরণ বন্ধ হওয়া দরকার এবং এখনই যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করা উচিত।
একাত্তর/জো
