চলন্ত উড়োজাহাজের ককপিটে কফি এবং মিষ্টি খাওয়ার অভিযোগে দুই পাইলটকে ডিউটি থেকে অপসারণ করেছে ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেট। এ সপ্তাহে স্পাইসজেটের একটি উড়োজাহাজের কন্ট্রোল প্যানেলে রাখা একটি খোলা কাপের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
বুধবার (১৫ মার্চ) স্পাইসজেট জানায়, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দুইজন পাইলটকে ডিউটি থেকে অপসারণ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ছবিটি তোলার অভিযোগ করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি তোলার সময় ফ্লাইটটি ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল।
ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর তা ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং স্পাইসজেটকে সতর্ক করে দেয় ভারতের এভিয়েশন রেগুলেটর।
স্পাইসজেট এয়ারলাইন্সের এক মুখপাত্র টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকাকে বলেছেন, তদন্ত শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতীয় বিমান চলাচলের নিয়ম পাইলট এবং ক্রুদের ককপিটের ভিতরে খাবার এবং পানীয় রাখার অনুমতি দেয়, তবে সেক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সমস্ত কাপের ঢাকনা থাকতে হবে এবং ছলকে পড়া এড়াতে একটি ট্রেতে বহন করতে হবে।
সর্বশেষ ঘটনাটি গত ৮ মার্চ হোলি উৎসবের দিন দিল্লি থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গুয়াহাটিতে যাওয়ার সময় একটি ফ্লাইটে ঘটেছিল বলে জানা গেছে।
ছবিটিতে একটি ঢাকনা ছাড়া কফির কাপ দেখানো হয়েছে, যাতে এয়ারলাইনের লোগো ছিল। কাপটি বিপজ্জনকভাবে বিমানের স্টার্ট লিভারে রাখা ছিল এবং পাইলটদের হাতে গুজিয়া ছিল, যারা ছবিতে দৃশ্যমান নয়। গুজিয়া একধরণের মিষ্টি ভাজা পেস্ট্রি, যা ঐতিহ্যগতভাবে হোলির সময় খাওয়া হয়।
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের জন্ম দেয়। বেপরোয়া আচরণের জন্য পাইলটদের সমালোচনা করেন অনেকে।
আরও পড়ুন: অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব
বিমান বিশেষজ্ঞ মোহন রঙ্গনাথন যিনি প্রথম টুইটারে ছবিটি শেয়ার করেছিলেন বলে জানা গেছে, বলেন, এমনকি সামান্য টার্বুলেন্সেও কফি ইলেকট্রনিক্সে ছলকে পড়তে পারে এবং সিস্টেমকে বিঘ্নিত করতে পারে। এটি একটি অপরাধমূলক কাজ।
মঙ্গলবার ভারতের এভিয়েশন রেগুলেটর ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন স্পাইসজেটকে অবিলম্বে ওই ক্রুদের সনাক্ত করতে বলে।
একাত্তর/এসজে
