বুধবার মধ্যরাতে আল আকসা মসজিদে দু’দফা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। আহত হয়েছে অনেক ফিলিস্তিনি। আটক করা হয়েছে অন্তত ৪০০ জনকে।
চূড়ান্তসীমা অতিক্রম না করতে তেল আবিবকে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
জবাবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, টেম্পল মাউন্টে সবার প্রবেশাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।
মধ্যরাতের ওই হামলায় আল আকসা মসজিদে ব্যবহার করা হয় টিয়ারগ্যাস, স্টান গ্রেনেড, রাবার বুলেট। উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন আহবান উপেক্ষা করেই এ হামলা চালায় ইসরাইল।
স্থানীয় এক নারী জানান, ইসরাইলি পুলিশ মসজিদের ভেতরেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। অনেকে হতাহত হয়েছে। তাদের কেউ সহায়তা করছে না। মসজিদের সব জানালা ভেঙে ফেলেছে তারা।
মসজিদে হামলাকে মুসলমানদের আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত আখ্যা দিয়েছে আল-আকসার ওয়াকফবোর্ড।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান, পবিত্র স্থাপনায় চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম না করতে দখলদারদের সতর্ক করা হচ্ছে। তাদের এ আচরণ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেম্পল মাউন্টে সব ধর্মের মানুষের মুক্ত প্রবেশ এবং প্রার্থনার স্বাধীনতা রক্ষায় ইসরাইল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোন উগ্রবাদ সহ্য করা হবে না।
আল আকসায় হামলার প্রতিবাদে হামাস ৯টি রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ ইসরাইলের। পাল্টা জবাবে হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান এবং গোলা হামলা চালায় ইসরাইল। তবে, রকেট হামলার কথা অস্বীকার করে হামাস।
আল আকসায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে অবরুদ্ধ গাজায়। আম্মানে ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেন জর্ডানের নাগরিকরা। আঙ্কারায় ইসরাইলি মিশনের সামনে প্রতিবাদ জানান তুর্কিরা।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসিপ তায়্যিপ এরদোয়ান বলেন, এ অবস্থায় চুপ থাকতে পারে না তুরস্ক। মুসলমানদের প্রথম কেবলায় ঘৃণ্য আক্রমণের নিন্দা জানাই। জীবন দিয়ে জেরুজালেমকে রক্ষাকারী ফিলিস্তিনি ভাই-বোনেরা একা নয়। এগুলো দমনের, রক্তের, উস্কানির রাজনীতি। চুপ থাকবে না আঙ্কারা। পবিত্র স্থাপনার অপমান সহ্য করা হবে না।
আরও পড়ুন: বাইডেন প্রশাসনের অধীনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হতে পারে: ট্রাম্প
গতবছর থেকে দখলকৃত পশ্চিমতীর এবং জেরুজালেমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলছে মুসলমানদের পবিত্র রমজান সামনে আসছে খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডে। এসবের মধ্যই চলমান উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
