সাধারণত ঘড়িতে থাকা সংখ্যা এবং কাটা বাম থেকে ডানে ঘোরে। কিন্তু তিউনিসিয়ার গ্রেট মসজিদের মিনারের ঘড়ির কাটা ঘোরে ডান থেকে বামে আর সংখ্যাগুলো উল্টো।
অথচ সময় দেয় সাধারণ ঘড়ির মতোই। মিনারে আছে ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ধর্মীয় প্রতীকও। আন্দালুসিয়ান স্থাপত্যে তৈরি মনোমুগ্ধকর মসজিদ বহন করছে বিশেষ এক বার্তা।
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে নষ্ট ঘড়ি। ভেতরের সংখ্যার ক্রমো ঠিক নেই। কাটাও ঘুরছে উল্টো। হয়তো সময়ও দিচ্ছে ভুলভাল। সত্যি হলো ঘড়িটি নষ্ট নয়।
সাধারণ ঘড়িতে থাকা সংখ্যা বাম থেকে ডানে আঁকা। সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টার কাটাও বাম থেকে ডানে ঘোরে। কিন্তু এ ঘড়িতে সংখ্যা ডান থেকে বামে।

মিনিট, ঘণ্টার কাটাও ডান থেকে বামে ঘুরছে। সাধারণ ঘড়ির সঙ্গে তুলনায় সংখ্যা লেখা এবং কাটার ঘোরা উল্টো হলেও সময় দিচ্ছে ঠিকঠাক।
ঘড়িটির অবস্থান তিউনিসিয়ার টেস্টোর শহরের গ্রেট মসজিদের মিনারে। আন্দালুসিয়ান প্রকৌশলী মুহাম্মেদ তাঘারিনো ১৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এটি নির্মাণ করেন। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা সম্প্রদায়ের সঙ্গেই তিনি এ শহরে বাস করতেন।
তিউনিসিয়ার নগর পরিকল্পনাবিদ রাচিদ সুসি জানান, হাজিরা ডান দিক থেকে কাবা শরীফ তাওয়াফ করেন। আরবি অক্ষর ডান দিক থেকে শুরু হয়।
অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ডানপাশ থেকে দৌড়াতে হয়। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো আন্দালুসিয়া। যা মানচিত্রে বাম দিকে অবস্থিত। কাটা বা সংখ্যা ডান দিক থেকে বাম দিকেই যাচ্ছে। যা স্থানীয়দের আন্দালুসিয়ার ফেরার আকুতি জানান দিচ্ছে।
শহরের গর্বের প্রতীক ঘড়িটি অনেক বিশ্বাসের সহাবস্থানের প্রতীক। রাচিদ সুসি বলেন, টেস্টোরের গ্রেট মসজিদের মিনার তিনটি ধর্মকে উপস্থাপন করে। এখানে ইসলামের প্রতীক রয়েছে।
ইহুদিদের স্টার অব ডেভিডের প্রতীক আছে। একইসঙ্গে খ্রিস্টানদের ত্রিত্বতত্ত্ব। এগুলো বিনা সন্দেহে ইঙ্গিত করে, এই শহরে বহুজাতি সত্ত্বার মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতাপূর্ণ অবস্থান ছিলো।

এ অঞ্চলে মসজিদ এবং একমাত্র প্রাচীন ঘড়িটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বিশ্বের বহু পর্যটককে আকর্ষণ করে এই স্থাপনা।
এ শহরে আসা প্রত্যেক পর্যটক মসজিদের মনোরম সৌন্দর্যে বিমহিত হন। যা আন্দালুসিয়ান স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় মিনারের ঘড়িটি।
আরও পড়ুন: ঘুরতে গিয়ে সেলফি তুললেই জরিমানা!
সম্ভবত পৃথিবীতে এটাই একমাত্র ঘড়ি যা ডান থেকে বাম দিকে ঘোরে। আট বছর আগে সংস্কারের পর এটি পুনস্থাপন করা হয়।
প্রাচীন এই ঘড়িটি ছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি নামাজ ঘর, রোমান এবং বাইজেন্টাইন স্মৃতিবহনকারী দুটি চত্বর। খাবার মজুদ করার উঁচু ড্রাম, একটি পানি সংগ্রাহক, দিনে সঠিক সময় দেয়ার জন্য রয়েছে একটি সানডায়াল।
একাত্তর/আরএ
