রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন। রাজ্যজুড়ে এক দফাতেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের ২২টি জেলার মধ্যে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে দ্বিস্তরীয় ভোট এবং বাকি জেলাগুলোতে ত্রিস্তরীয় (গ্রাম সভা, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ) ভোট নেওয়া হবে।
এদিকে ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ভোটে সহিংসতার সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। যদিও ইতিমধ্যে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল সাতটা থেকে, চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। ভোট নেওয়া হবে ব্যালট পেপারে, গণনা হবে আগামী ১১ জুলাই।
এই নির্বাচনে রাজ্যে ভোট নেওয়া হবে মোট ৭৩ হাজার ৮৮৭ আসনে। তার মধ্যে রয়েছে তিন হাজার ৩১৭ টি গ্রাম সভার ৬৩ হাজার ২২৯ আসন, ৩৪১টি পঞ্চায়েত সমিতির ৯ হাজার ৭৩০ আসন এবং ২২ জেলা পরিষদের ৯২৮ আসন।
প্রায় দুই লাখের বেশি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৬১ হাজার ৬৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে। মোট ভোটার পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ২৩৪ জন।
ইতিমধ্যেই বুথে বুথে পৌঁছতে শুরু করেছে ভোট কর্মীরা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি থাকছে রাজ্য পুলিশের সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর গ্রামসভা নির্বাচনে এই প্রথম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিজেপি ছাড়াও লড়তে হবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এরই পাশাপাশি বেশ কিছু আসনে টাফ ফাইট দিতে পারে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)।
আগামী বছর ২০২৪ সালে দেশটিতে লোকসভা নির্বাচন, তার আগে এই নির্বাচন প্রতিটা রাজনৈতিক দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সহিংসতা। শেষবার ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা দেখেছিল রাজ্যবাসী। ভোট সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের।
আর এবার ভোট শুরু হওয়ার আগে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন। আহতের সংখ্যার বহু। এমনকি ভোটের ঠিক একদিন আগে শুক্রবারও মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার জেলাসহ একাধিক জায়গায় ভোটকেন্দ্রিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
এদিন সকালেই মুর্শিদাবাদ জেলার রাণীনগরের রায়পুর গ্রামে অরবিন্দ মণ্ডল নামে এক কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোট গ্রহণের দিন বা ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে যে নতুন করে আর কোনো নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে না একথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে রাজ্য জুড়ে একের পর এক ভোট সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যটি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ভোট সম্পর্কিত বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ জানতে ও সেগুলো বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজভবনে (গভর্নর হাউজ) পিসরুম চালু করেছেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি গত দুই সপ্তাহ ধরে সন্ত্রাস কবলিত এলাকা গুলো পরিদর্শন করছেন তিনি। কথা বলছেন নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। শুক্রবারও সন্ত্রাসবলিত মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গা ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল।
আরও পড়ুন: ইমরান খানের নামে আরও ছয় মামলা
ভোটকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার রাজভবনে সংবাদ সম্মেলন করে রাজ্যপাল প্রশ্ন তোলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের গণতন্ত্র যদি হত্যা হয়, তবে এর খুনি কে? রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার কি হাত তুলে জানাবেন? আপনার জানা উচিত গণতন্ত্রের হত্যাকারী কে?’
এমন এক পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিরোধী দলগুলো দাবি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের প্রশাসন যেন পদক্ষেপ নেয়।
একাত্তর/এসি
