বিশ্বে যতো আফিম উৎপাদন হয়, তার সিংহভাগই হয় তালেবান রাজ্য আফগানিস্তানে। বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে বহুদিন ধরে শীর্ষে আছে দেশটি। কিন্তু সেই অবস্থান আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না তালেবান শাসনের কারণে, দেশটিতে আফিম উৎপাদনকে ধস নেমেছে।
রোববার, জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান শাসন শুরু হবার পর নানা নিষেধাজ্ঞায় আফিম বা পপি চাষ ও উৎপাদন ৯০ শতাংশ কমে গেছে। গেল বছরের এপ্রিল থেকে পপি চাষ নিষিদ্ধ করে তালেবান। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়েই নয়, আফিম ব্যবহারও শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২২ সালের শেষ থেকে ২০২৩ সালে এসে পপি চাষের জমির পরিমাণ ২ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর থেকে কমে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। পপি চাষ প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে একই ভাবে কমেছে আফিম উৎপাদন।
একই সময়ের মধ্যে আফিম উৎপাদন ৬ হাজার ২০০ টন থেকে কমে ৩৩৩ টনে দাঁড়িয়েছে। যা আফগান কৃষকদের জন্য বড় একটি ধাক্কা। রাজস্ব কমেছে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে পপি জন্মায়। এতে হেরোইন তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান আফিম থাকে।
সব আফিম বা পপি ফুল থেকে মাদক দ্রব্য তৈরি হয় না, পপি ফুলের আবার অনেক নিরীহ প্রজাতি রয়েছে যা বাগানে শোভা পায়। নিরীহ দর্শন এই গাছটি একটি মাদক দ্রব্যের গাছ। ফল যখন পরিপক্ব হয় তখন ব্লেড দিয়ে ফলে গায়ে গভীর করে আঁচড় দেয়া হয়।
ফলে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর এর ফল থেকে কষ বের হয় এবং চাষীরা তা সংগ্রহ করে। এটাই হলো আফিমের কাঁচামাল। এর পর বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপজাত জৈব রাসায়নিক দ্রব্য বানানো হয়। এটি থেকে হিরোইন ছাড়াও মরফিন পাওয়া যায়, যা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলের বীজগুলি তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বীজের নাম পোস্তদানা। ফলের খোসার নাম পোস্তঢেড়ী।
আফগানিস্তানই ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী দেশ। এখান থেকে ইউরোপে ও এশিায়ায় হেরোইন যেত। আফিস উৎপাদনে ধস নামার বিষয়টি আফগান কৃষকদের কাছে একটি বড় ধাক্কা। এ কারণে চিন্তিত জাতিসংঘও। তারা বলছে, যারা আফিম চাষ করত, তারা যাতে অস্ত্র পাচার বা অন্য কোনো বেআইনি কাজ না করে, তার দিকে নজর রাখা উচিত।
রাজস্ব বিস্ময়করভাবে ১ বিলিয়ন হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, যদিও এই প্রবণতাটি অবৈধ আফিম ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতে পারে, এটি একটি দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিও উপস্থাপন করে যারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য আফিম চাষের উপর নির্ভর করে।
আফিম আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে জন্মায়, হেরোইন তৈরিতে আফিম একটি প্রধান উপাদান। আফগানিস্তান আগে ছিল বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদক, বিশ্বব্যাপী সরবরাহের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় হেরোইনের একটি প্রধান উৎস।
আফিম আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে জন্মায়, হেরোইন তৈরিতে আফিম একটি প্রধান উপাদান। আফগানিস্তান আগে ছিল বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদক- বিশ্বব্যাপী সরবরাহের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় হেরোইনের একটি প্রধান উৎস।
তালেবানরা এক সময় আফিম চাষ নিয়ন্ত্রণ করতো। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আফিম বাণিজ্য থেকে আনুমানিক ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলো তালেবান, যা দিয়ে তারা অস্ত্র কিনতে। তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর এই মাদক চাষের উদ্যোগকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
