ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের পাঁচ মাস হতে চলেছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার বড় শিকার শিশুরা। গুলি-বোমার পাশাপাশি সেখানে শিশুরা মারা যাচ্ছে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতেও। গাজার হাসপাতালগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাবে শিশুদের করুণ দৃশ্য।
সেখানে প্রতিদিনই অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে কোন না কোন শিশু। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধ না থামালে গাজার শিশুদের ভয়ংকর পরিণতি হবে, না খেয়েই মারা যাবে হাজারও শিশু। তবে, এসবের তোয়াক্কা করছে না ইসরাইলি হায়েনারা। যুদ্ধবিরতি নিয়েও টালবাহানা শুরু করেছে।

গাজার শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে হাসপাতালে গেলেই চোখে পড়বে ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখ। ফিলিস্তিনের দুই অসহায় শিশুর যাদের চোখ কোটরাগত আর মুখ ক্ষতবিক্ষত। ক্ষুধা আর অপুষ্টিতে হাড্ডিসার শরীর নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে তারা।
চিকিৎসকরা বলেন, যুদ্ধের আগে ইয়াজানের স্বাস্থ্যের অবস্থা অনেক ভালো ছিল। সে হাসতো, খেলতো ও চলাফেরা করতো। কিন্তু এই মুহূর্তে, তার স্বাস্থ্যের অনেক অবনতি হয়েছে। সে নড়ছে এবং কিছুই করতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না।

যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার আরেক শিশু আহমেদ কান্নানের ওজন ছিল ছয় কেজি। এখন সেটি নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। ওজন হারানোয়, হারিয়েছেন চলাফেরা সামর্থ্য। চিকিৎসকরা বলছে, কান্নানের অবস্থা প্রতিদিনই অবনতি হওয়ায় ফুরিয়ে আসছে বাঁচার আশাও।
এদিকে, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু মিলার শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যর্থ হয়েছে চিকিৎসকদের সব চেষ্টাই। আদরের ছোট্ট সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায় মা আনোয়ার আবদুলনবি। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গোটা হাসপাতালের পরিবেশ। এমন সব গল্পের ছড়াছড়ি গাজার অবশিষ্ট থাকা হাসপাতালগুলোতে।

মিলা বেশ কিছু দিন ধরেই ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছিলো। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন সংকটে এই হাসপাতালেই মারা গেছে ১৩ শিশু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছেই। গাজার শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ অপুষ্টি।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত ডা. আহমদ সালেম বলেন, গাজায় শিশুদের মৃত্যুর একটি বড় কারণ নতুন মায়েরা নিজেরাই অপুষ্টিতে ভুগছেন। ফলে শিশুরা মায়েরা দুধ পাচ্ছে না। এমনকি তাদের কাছে ফর্মুলা দুধও নেই। তাই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেই ওদের শেষ আশ্রয়! তবে, সেখানেও বাঁচানো যাচ্ছে না তাদের।
গোটা গাজার চিত্রই এখন একই। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সিংহভাগ শিশুই ক্ষুধা আর আপুষ্টির শিকার। তাই, এখনই যুদ্ধ বন্ধসহ ত্রাণ সহায়তা স্বাভাবিক করা না গেলে গাজার একটি প্রজন্ম এভাবেই ধীরে ধীরে নিঃশেষ হবে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও।
পাকিস্তানে তুষার ঝড়ে শিশুসহ নিহত ৩৫
হাইতিতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারি