বুলেটের থেকে অপুষ্টিতেই মৃত্যুর মুখে গাজার শিশুরা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের পাঁচ মাস হতে চলেছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার বড় শিকার শিশুরা। গুলি-বোমার পাশাপাশি সেখানে শিশুরা মারা যাচ্ছে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতেও। গাজার হাসপাতালগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাবে শিশুদের করুণ দৃশ্য। 

সেখানে প্রতিদিনই অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে কোন না কোন শিশু। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধ না থামালে গাজার শিশুদের ভয়ংকর পরিণতি হবে, না খেয়েই মারা যাবে হাজারও শিশু। তবে, এসবের তোয়াক্কা করছে না ইসরাইলি হায়েনারা। যুদ্ধবিরতি নিয়েও টালবাহানা শুরু করেছে। 

গাজার শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে হাসপাতালে গেলেই চোখে পড়বে ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখ। ফিলিস্তিনের দুই অসহায় শিশুর যাদের চোখ কোটরাগত আর মুখ ক্ষতবিক্ষত। ক্ষুধা আর অপুষ্টিতে হাড্ডিসার শরীর নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, যুদ্ধের আগে ইয়াজানের স্বাস্থ্যের অবস্থা অনেক ভালো ছিল। সে হাসতো, খেলতো ও চলাফেরা করতো। কিন্তু এই মুহূর্তে, তার স্বাস্থ্যের অনেক অবনতি হয়েছে। সে নড়ছে এবং কিছুই করতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না। 

যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার আরেক শিশু আহমেদ কান্নানের ওজন ছিল ছয় কেজি। এখন সেটি নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। ওজন হারানোয়, হারিয়েছেন চলাফেরা সামর্থ্য। চিকিৎসকরা বলছে, কান্নানের অবস্থা প্রতিদিনই অবনতি হওয়ায় ফুরিয়ে আসছে বাঁচার আশাও। 

এদিকে, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু মিলার শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যর্থ হয়েছে চিকিৎসকদের সব চেষ্টাই। আদরের ছোট্ট সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায় মা আনোয়ার আবদুলনবি। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গোটা হাসপাতালের পরিবেশ। এমন সব গল্পের ছড়াছড়ি গাজার অবশিষ্ট থাকা হাসপাতালগুলোতে। 

মিলা বেশ কিছু দিন ধরেই ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছিলো। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন সংকটে এই হাসপাতালেই মারা গেছে ১৩ শিশু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছেই। গাজার শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ অপুষ্টি।

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত ডা. আহমদ সালেম বলেন, গাজায় শিশুদের মৃত্যুর একটি বড় কারণ নতুন মায়েরা নিজেরাই অপুষ্টিতে ভুগছেন। ফলে শিশুরা মায়েরা দুধ পাচ্ছে না। এমনকি তাদের কাছে ফর্মুলা দুধও নেই। তাই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেই ওদের শেষ আশ্রয়! তবে, সেখানেও বাঁচানো যাচ্ছে না তাদের। 

গোটা গাজার চিত্রই এখন একই। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সিংহভাগ শিশুই ক্ষুধা আর আপুষ্টির শিকার। তাই, এখনই যুদ্ধ বন্ধসহ ত্রাণ সহায়তা স্বাভাবিক করা না গেলে গাজার একটি প্রজন্ম এভাবেই ধীরে ধীরে নিঃশেষ হবে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও। 

এআরএস
পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে শিক্ষার্থীবাহী একটি বাস সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে ২০ শিক্ষার্থী ও একজন প্রাপ্তবয়স্কসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। 
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ থামেনি। সবশেষ দখলদারদের ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, তিনি গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য দেশটির সামরিক...
পবিত্র ঈদুল আজহার এই সময়টাতে মাযেন আল-জেরজাওয়ির দম ফেলার ফুসরত থাকার কথা ছিল না। গাজা সিটির অন্যতম শীর্ষ পশুপালকের খামারে শত শত ভেড়া আর ছাগলের ডাক, আর ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকত চারপাশ। কিন্তু আজ...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর