নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বর্তমান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আরও ছয় বছরের জন্য দেশটির ক্ষমতায় থাকছেন। তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায়। কখনো প্রধানমন্ত্রী, কখনো বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির নেতা হিসেবে আছেন তিনি। লেনিনগ্রাদের এক দরিদ্র্য পরিবার থেকে উঠে এসে রাশিয়ার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কী করে হলেন পুতিন?

রাশিয়ার পরাক্রমশালী এই প্রেসিডেন্টের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নিদারুণ দারিদ্র্য, বন্ধুদের উপহাস আর তাচ্ছিল্যের মধ্যে। তবে সেই জীবনই তাকে দিয়েছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার শক্তি। সেই সময়ের ঘটনার কথা মনে করে পুতিন একবার বলেছিলেন, ৫০ বছর আগে লেনিনগ্রাদের রাস্তা আমাকে একটি নিয়ম শিখিয়েছিল। আর সেই নিয়মটি হলো, লড়াই যদি অনিবার্য হয়, তবে প্রথম ঘুষিটি আপনাকেই ছুড়তে হবে।

বাবা স্পিরিডোনোভিচ পুতিন ছিলেন তৎকালীন সোভিয়েত নৌবাহিনীর নিয়মিত সেনা। তখনকার লেনিনগ্রাদ আর বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গে সেই নৌসেনার ঘরে ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর জন্ম নেন ভ্লাদিমির পুতিন। ছাত্রজীবন শেষ করেই গোয়েন্দা বাহিনীতে যোগ দেন পুতিন। আর গোয়েন্দাগিরির পথ ধরেই আসেন রাজনীতিতে। যার সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। হয়ে ওঠেন রাশিয়ার সর্বেসর্বা।

ছোট থেকেই মারামারি আর সংঘাতের নেশা ছিল লেলিনগ্রাদের কিশোর পুতিনের। সমবয়সী বন্ধুদের তটস্থ রাখতো ছেলেটি। সেই নেশা থেকেই রপ্ত করেছিলেন জুডো। আইন শাস্ত্র পড়াশোনা করা পুতিন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করেই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন।
১৯৯৭ সালে বরিস ইয়েলেৎসিন যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তখন ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনে আসেন এবং তাকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সার্ভিসের প্রধান হিসাবে নিয়োগ করা হয়। কেজিবির পর এ সংস্থাটি গঠন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের শুরুতে ইয়েলেৎসিন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং পুতিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করেন। ২০০০ সালের মার্চ মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেসে খেলে জিতে যান তিনি। ২০০৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারো তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারবে না। এই সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ২০০৮ সালে পুতিন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ২০১২ সালেই তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসেন। রাশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য পরবর্তী পরিকল্পনার ছক কাটছেন।

এবারের জয় পুতিনকে রাশিয়ার ২০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধানে পরিণত করলো। নির্বাচনে জয়লাভের পর এক ভাষণে ‘তাঁর প্রতি সমর্থন ও বিশ্বাস রাখায়’ রুশ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পুতিন। এ সময় পশ্চিমাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারাই আমাদের ভয় দেখানো বা দমনের চেষ্টা করুক না কেন; কেউই সফল হয়নি, তাদের এই প্রচেষ্টা এখনও কাজে দিচ্ছে না, ভবিষ্যতেও দেবে না।
রেকর্ড ব্যবধানে আবারও পুতিনের নিরঙ্কুশ বিজয়