অবিশ্বাস ঘটনা! আমেরিকার আকাশে উড়ছে রাশিয়া-চীনের পরমাণু বোমা সক্ষমে শক্তিশালী সব যুদ্ধবিমান। মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিমত নির্বাচনটাও করতে দেবে না চীন-রাশিয়া। নির্বাচনের আগেই মার্কিন কর্তাদের হাঁটুতে কাঁপন ধরাচ্ছে দুই বন্ধু পুতিন-শি জিনপিং।
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বেড়েছে দুই দেশের বাণিজ্য। এবার দুই দেশ মিলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলের কাছে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর ও বেরিং সাগরে সামরিক মহড়া চালিয়েছে মস্কো-বেইজিং।
বার্ষিক সামরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বুধবার প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরে যৌথ সামরিক মহড়া চালায় দুই দেশ। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এই অনুশীলন। উত্তর আমেরিকা মহাকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ড জানিয়েছে, বোমারু বিমানগুলো আন্তর্জাতিক আকাশসীমার মধ্যেই ছিলো ও এগুলো কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরকোভস্কি এই ঘটনাকে প্রতিপক্ষের অভূতপূর্ব উসকানি বলে বর্ণনা করেছেন।

চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মহড়ার সঙ্গে বর্তমান বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও বসে নেই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা। মহড়া চলাকালীন আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের আকাশসীমার কাছাকাছি চলে এলে তাদের শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আকাশ প্রতিরক্ষা-বিষয়ক সংস্থা নোরাড। পরে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে যুদ্ধবিমানগুলোকে ধাওয়া দেয় ওয়াশিংটন ও অটোয়ার বিমান।
যদিও চীনের দাবি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশে রাশিয়ার সঙ্গে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় পক্ষকে জড়ানো বা ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানায় বেইজিং।
অতীতেও চীন-রাশিয়া একসাথে অনেক সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বেরিং সাগরের ওপর দিয়ে প্রায়শই যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায় রাশিয়ার। তবে এবারই প্রথম আলাস্কা উপকূলের কাছে বেরিং সাগর ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া চালালো দেশ দুটো।
