ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। এরপর দুই দেশ একাধিকবার শান্তি আলোচনায় বসলেও শেষ পর্যন্ত থামেনি যুদ্ধ। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, আগামী বছরই শেষ হতে পারে এই যুদ্ধ।
সামরিক সহায়তার জন্য জার্মানির বার্লিনে সফরকালে শুক্রবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলেনস্কি। বার্লিন সফরের আগে তিনি লন্ডন, প্যারিস ও রোম সফর করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি'র।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য জার্মানিকে ধন্যবাদ জানান জেলেনস্কি । তিনি বলেন, এই সহায়তা পরের বছর না কমাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে শেষ হবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি শোলজকে যুদ্ধে জয়ের জন্য তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বের অন্য কারো চেয়ে ইউক্রেন এই যুদ্ধের সুষ্ঠু ও দ্রুত সমাপ্তি চায়।
তিনি যোগ করেন, এই যুদ্ধ আমাদের দেশকে ধ্বংস করছে, আমাদের মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
এসময় শোলজ প্রতিশ্রুতি দেন যে, জার্মানি ও ইইউ অংশীদাররা এ বছর ইউক্রেনে আরও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাবে এবং ২০২৫ সালে জার্মানি চার বিলিয়ন ইউরো সাহায্য দেবে। তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনের জন্য আমাদের সহায়তা হ্রাস করবো না।
শোলজ আরও বলেন, তিনি ও ইউক্রেনের নেতা জেলেনস্কি রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শান্তি সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই শান্তি আনা সম্ভব। আমরা রাশিয়ার নির্দেশিত শান্তি মেনে নেবো না বলেও মন্তব্য করেন শোলজ।
জেলেনস্কি পরে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সাথে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন।
এর আগে জেলেনস্কি ভ্যাটিকানে বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের নেতা ৮৭ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে আলোচনার মধ্যদিয়ে তার সফরের কার্যসূচি শুরু করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আক্রমণের পর পোপ ফ্রান্সিসের সাথে এটি ছিলো তার দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ।
চলতি বছরের শুরুতে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সিস ইউক্রেনীয়দের ‘সাদা পতাকা তুলে আলোচনা’ করার আহবান জানান। তবে তার এ মন্তব্য স্বাভাবিকভাবে নেয়নি ইউক্রেন।
হিজবুল্লাহর হামলায় ১২ ইসরাইলি সেনা নিহত