ইরানের অপারেশন ট্রু প্রমিজ-টু হামলার প্রতিশোধে ইসরাইলের পাল্টা হামলা নিয়ে যেখানে তেল আবিবেই বিদ্রূপ হচ্ছে, তখন উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে ভিন্ন দাবি হাজির হলেন আমেরিকার দুই বিশ্লেষক। তাদের দাবি, ইসরাইলের মিসাইল দাবি করেছেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত পরিত্যক্ত একটি ভবনে আঘাত করেছে। সেই সঙ্গে ইরানের মিসাইল উৎপাদনের কেন্দ্র খোজিকেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে হয়েছে মিসাইল কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে দাবি করেছেন তারা।
আলাদা বিবৃতিতে এই দুই বিশ্লেষক জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত তিন দফায় ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সেই হামলার ছবি প্রকাশ করেছে একটি বাণিজ্যিক উপগ্রহ। এতে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলে ব্যবহৃত সলিড ফুয়েল ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী সেনারা। এনিয়ে কোন বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

এই দুই বিশ্লেষকের একজন হলেন জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক এবং ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি রিসার্সের প্রধান ডেভিড আলব্রাইট। আরেকজন হলেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যট সিএনএ–এর ডেকার ইভিলেনথ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই দুই গবেষক বলেন, ইসরাইল তেহেরানের পার্শ্ববর্তী সামরিক ভবনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র খোজিকেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রটির। এর আগে গত জুলাইয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছিলো, খোজিকে ইরান ব্যাপক সম্প্রসারণের কাজ করছে।
ডেকার ইভিলেনথ বলেন, ইসরাইল খোজিকে হামলা চালিয়েছে। যেখানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে। জুলাইয়ে এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খোজিরে ব্যাপক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইভিলেনথ বলেন, ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
ইভিলেনথ বলেন, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইন ফার্ম থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ইসরাইলের বিমান হামলায় খোজিরে দুটি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলে সলিড ফুয়েল মেশানো হয়। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরাইল ইলাম, খোজেস্তান ও তেহরানের আশপাশের এলাকায় হামলা চালাতে খুবই হালকা ওয়ারডেহ ব্যবহার করেছে।
ইভিলেনথ বলেন, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ফার্ম থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ইসরাইলের বিমান হামলায় খোজিরে দুটি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলে সলিড ফুয়েল মেশানো হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে খোজিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির দুটি ভবন ধ্বংস হয়েছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও তেল আবিবে তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাসব্যাপী হামলার জবাবে ইসরাইলের বিমান বাহিনী তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং তেহেরানের আশপাশে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব হামলার বেশিরভাগই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরাইল আইলাম, খোজেস্তান এবং তেহরানের আশেপাশে হামলা চালাতে ওয়ারডেহ ব্যবহার করেছে। আমরা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে পেরেছি।
উত্তর গাজায় পোলিও টিকার কার্যক্রম বন্ধ