গাজায় যুদ্ধের ময়দানে ফিরতে চাচ্ছে না ইসরাইলি সেনারা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৫৫ পিএম

কথায় বলে ইস্পাতেরও ক্ষয় আছে। আর, সেখানে মানুষ তো কোন ছাড়। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের হত্যায় হাত পাকানো ইসরাইলি সেনারা মনে করে, তারাই বিশ্বসেরা। আমেরিকার সরাসরি প্রশিক্ষণে তৈরি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফের নাম উচ্চারিত হবার আগে যোগ হয় অভিজাত শব্দটি। কিন্তু সেই অভিজাত বাহিনীর সদস্যরা এখন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত-অবসন্ন। আর যেতে চাচ্ছেন না যুদ্ধের ময়দানে।

এমনিতেই গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় অভিযানরত ইসরাইলি বাহিনীর সংরক্ষিত সেনারা ক্লান্তি ও অবসাদে ভুগছেন। এর মধ্যে লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকে। দীর্ঘ এই যুদ্ধ সেনাদের মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে মনোবল হারাচ্ছে। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টাসহ নানাকিছু তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত করছে।

২০২৩ সালের সাত অক্টোবর ইসরাইলে হামাস যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলার জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি সেনারা, যা এখনও চলছে। এ অভিযানে অংশ নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত বিভাগের প্রায় তিন লাখ সেনা। এই সেনাদের মধ্যে ১৮ শতাংশই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে। এরাই এখন দীর্ঘ যুদ্ধের কারণের দারুণভাবে ক্লান্ত।

ইসরাইলে নারী-পুরুষসহ সব নাগরিকের সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে, দেশটির সংরক্ষিত সেনাবাহিনীতে কখনও সেনা সদস্যের অভাব হয় না। তারা বলছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত কারণ সংরক্ষিত বিভাগের সদস্যদের কেউই নিয়মিত সেনা সদস্য নয়। গাজায় অভিযান শুরু করার পর থেকে ৩৬৭ সেনাকে হারিয়েছে ইসরাইল। এছাড়া, লেবাননে অভিযান শুরুর পর থেকে নিহত হয়েছেন ৩৭ ইসরাইলি সেনা।

নিজেদের ক্লান্ত হবার কথা জানিয়ে ইসরাইলি সেনারা সমানে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন। সেসব পোস্ট এখন ভাইরাল। বেশিরভাগ পোস্টেই তারা সরকারের কাছে অনুনয় বিনয় করে বলেছেন, দেশের জন্য লড়াই করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু এই মুহূর্তে তারা ক্লান্ত। যুদ্ধের ভয়াবহতায় হাঁপিয়ে উঠছেন তারা। এই যুদ্ধের শেষ হাওয়া দরকার। তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। নিয়মিত জীবনে ফিরতে চান তারা।

দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তিই শুধু নয়, চাপিয়ে দেয়া দায়িত্ব নিয়েও চরম অসন্তোষ রয়েছে সেনাদের মধ্যে। ইসরাইলের গণমাধ্যম হামাকোম জানিয়েছে, সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের লোকজন যুদ্ধের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট। বহু সংখ্যক সেনা গাজা উপত্যকার যুদ্ধের ময়দানে আর ফিরতে চাচ্ছে না। যুদ্ধের ময়দানে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানো এই সেনাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যা অচিরেই বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

হামাকোমকে ইসরাইলি সেনারা বলেছেন, তারা হতাশ, অনুৎসাহিত এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। গাজা একের পর এক ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ দেখে তাদের এই মানসিক বৈকল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সহকর্মীদের মৃত্যুতেও তারা ভীষণভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে জাবালিয়া, যাইতুন এবং সুজাইয়া এলাকায় ইসরাইলি সেনারা ব্যাপক মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। এসব মৃত্যু তাদের রাতের ঘুমকে কেড়ে নিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেনারা আরও বলেছেন, টানা ১২ মাসের বেশি যুদ্ধ করার পরেও কোনো সমাধান আসেনি এবং সেনারা এখন ক্লান্ত। হামাকোম বলছে, এর অর্থ হচ্ছে যুদ্ধের কারণে ইসরাইলি সেনারা তাদের নৈতিক মনোবল হারিয়েছে। বহু সংখ্যক সেনা গাজা উপত্যকার যু্দ্ধের ময়দানে আর ফিরতে চাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ইসরাইলের সামরিক বাহিনী হয়েছে।

 

এআরএস
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ থামেনি। সবশেষ দখলদারদের ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে ইসরাইলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে যখন ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কসাই’ খ্যাত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানালেন দখলদারদের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির শর্তাবলীতে নিজের আখের গুছিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে পর্দার আড়ালে এক নতুন চাণক্য নীতি গ্রহণ করেছেন ইসরাইলের...
ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের ওপর দিনভর ব্যাপক...
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যাসহ হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদীয়...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর