পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানে সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে ভারত যদি তাদের সীমানায় বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে সেখানে সামরিক হামলা চালাবে পাকিস্তান। আর, ভারত যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করলে, কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর থেকেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। দুই দেশই পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে এই দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে। যুদ্ধ লাগার আশঙ্কায় অনেকেই পরিবার নিয়ে ছাড়ছেন এলাকা।
গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলা চালায় কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার উপশাখা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলাকারীরা অন্তত ২৬ পর্যটককে গুলি করে হত্যা করে, আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। নিহতরা সবাই পুরুষ।
ভয়াবহ এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত, দূতাবাস থেকে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনা, ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি।

এই হামলার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লির শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ভারতের জন্য নিজেদের স্থল ও আকাশসীমা বন্ধ, পাকিস্তানে অবস্থানরত ভারতীয়দের ভিসা বাতিল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিতসহ একাধিক পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।
ভয়াবহ এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত, দূতাবাস থেকে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনা, ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি।
শুক্রবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ টেলিভিশন প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সেখানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুধু বন্দুকের গুলি বা কামানের গোলা ছুড়লেই আগ্রাসন হয় না। বহুভাবে আগ্রাসন চালানো যায়।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, যেমন সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া বা পানিপ্রবাহকে ভিন্ন পথে চালিত করাও একপ্রকার আগ্রাসন। কারণ এর ফলে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু হবে লাখ লাখ মানুষের।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তাই সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ আটকাতে যদি তারা (নয়াদিল্লি) বাঁধ বা এই জাতীয় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে- সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই আমরা আঘাত করব এবং সেই স্থাপনা ধ্বংস করব। আপাতত আমরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
এদিকে, ভারত যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশের জনগণের সম্মান রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকারও করেছে তারা। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অটল থাকার প্রত্যয়ও জানায় বাহিনীটি।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদর দপ্তরে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত স্পেশাল কর্পস কমান্ডারর্স কনফারেন্সের (সিসিসি) পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে ভূরাজনৈতিক পরিবেশ, পাকিস্তান-ভারত চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সেনাপ্রধান আসিম মুনির দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, মনোবল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সব সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর প্রস্তুতি জোরদারের তাগিদ দেন। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অটল থাকার অঙ্গীকারও করেন।
পেহেলগাম হামলায় লস্কর-আইএসআই আঁতাত: রিপোর্ট