গাজার দক্ষিণে ত্রাণ সংগ্রহের সময় আবারো হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এ হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন ফিলিস্তিনি। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘জঘন্য অপরাধ’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া কার্যালয়। এই ইস্যুতে উদ্বেগ জানানো হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশনেও।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিনের মতো গাজার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দীর্ঘ এগারো সপ্তাহের অবরোধের পর গাজায় খুব সামান্য ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয় ইসরাইল। কিন্তু এ ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত একটি সংগঠনকে।
পুরো গাজার লাখ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষ ত্রাণ সংগ্রহ করতে ছুটছেন সেই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে। কিন্তু মানবিক সহায়তা নিতে গিয়েও ইসরাইলের গুলিতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদেরকে।

তারা বলেন, একে তো আমরা শেষ কবে পেট ভরে এক বেলা খেয়েছি তা মনেও করতে পারছি না তার ওপর পুরো গাজার মানুষকে ত্রাণ নিতে যেতে হবে আল মাওয়াসিতে? রাফায়? গাড়িঘোড়া কিছুই চলে না। গাজার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেঁটে যাওয়া আবার ফিরে আসা বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই সম্ভব না।
তারা আরও বলেন, সেখানে গেলে ত্রাণ পাওয়া যাক আর না যাক অপমানিত অবশ্যই হতে হচ্ছে। নামে মাত্র খাবারের জন্য এতো দূরে গিয়ে কেন আমরা হেনস্তার শিকার হবো?
এমনই পরিস্থিতিতে বুধবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় জাতিসংঘের একটি গুদামঘর ভেঙে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে অনাহারে থাকা ফিলিস্তিনিরা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এ সময় ত্রাণ লুটপাটের হুড়োহুড়িতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
এ মানবেতর পরিস্থিতিতে গাজায় দ্রুত পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজায় ত্রাণ সরবরাহ করার বিষয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প বলেন, গাজার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। গাজার মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানো হচ্ছে। সেখানে খুবই জঘন্য একটা লড়াই চলছে।
জাতিসংঘ স্বস্তি পরিষদের অধিবেশনে গাজার মানবিক সংকট তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর। তিনি বলেন, ইসরাইল শুধু ক্ষুধা নয়, এখন সাহায্যকেও যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ালেন ইলন মাস্ক