যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের গোপন আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পর, দুই দেশই বিষয়টি অস্বীকার করেছিলো। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি সূত্র। এসব সূত্র বলেছে, চুক্তি করতে দুই দেশ আলোচনা চলমান রেখেছে।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে এই তিন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে চুক্তির জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে ইসরায়েল ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে এ নিয়ে আলাপ চলছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়মিন নেতানিয়াহুর দপ্তর কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্রও পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সূত্রগুলোর দাবি, গত মাসে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্ডে সেমায়া কুম্বার ইসরাইল সফরের সময় বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। যদিও দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এ ধরনের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।
এদিকে ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক সংগঠন ও দক্ষিণ সুদানের মানবিক সংকট, গাজা থেকে ফিলিস্তিনি সরিয়ে নেওয়া নয়।
চলতি মাসেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘোষণা দেন এবং জানান ফিলিস্তিনিদের উচিত স্বেচ্ছায় উপত্যকা থেকে চলে যাওয়া। এর আগেও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মিসরে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু কায়রো সেই প্রস্তাব শুরুতেই প্রত্যাখান করে।
তিনটি সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সেমায়া কুম্বার ইসরাইল সফরে গেলে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সূত্রগুলো দাবি ঠিক হলে, সেটি হবে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কারণ, দক্ষিণ সুদান ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভিক্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গত শুক্রবার রয়টার্স তিন সূত্রের দাবির বিষয়ে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, তাতে সাড়া দেয়নি। গত মঙ্গলবার খবরটি প্রথমবার প্রকাশ্য এনে মার্কিন বার্তা সংস্থা- এপি।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেছেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এবং জনগণ আমাদের কোনও মানুষকে দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোনও স্থানে স্থানান্তরিত করার কোনও পরিকল্পনা বা ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। এই বিষয়ে হামাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এই সপ্তাহে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা সফর করা ইসরাইলি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল সাংবাদিকদের বলেন, তার সফরে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ছিলো না। এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে এসব কথা জানান তিনি।
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিসা স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
আটকে গেলো যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য আলোচনা
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ইন্দোনেশিয়া