মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা ‘পালানোর’ পর দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির এলিট সামরিক ইউনিট ক্যাপস্যাট জাতীয় রেডিওতে ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতা দখল করেছে এবং প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ক্যাপস্যাটের প্রধান কর্নেল মাইকেল রান্ড্রিয়ানিরিনা জাতীয় রেডিওতে ঘোষণা দেন, আমরা ক্ষমতা দখল করেছি। প্রজাতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।
প্রাসাদের সামনে সশস্ত্র সৈন্যদের নিয়ে তিনি বলেন, এটি ‘জনগণের আহবানে’ করা হয়েছে।
এদিকে রাজোয়েলিনার অবস্থান এখনও অস্পষ্ট। ১৩ অক্টোবর রাতে তিনি ফেসবুকে একটি সম্প্রচারে ‘নিরাপদ স্থান’ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। অভিশংসন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।
‘গুজব’ রয়েছে যে তিনি ফরাসি সামরিক বিমানে করে ফ্রান্স বা মরিশাসে পালিয়েছেন।

এদিকে অভিশংসনের পর বিক্ষোভকারীরা আন্তানানারিভোতে উৎসব করছে। তবে সামরিক উপস্থিতি উত্তেজনার সৃষ্টি করছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন সংযমের আহবান জানালেও ফ্রান্স এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। একজন সিনিয়র সেনা জেনারেল জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ‘জেন জি মাদাগাস্কার’ নামে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত এই আন্দোলন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানির অভাব এবং সরকারি অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিক্ষোভে অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও সরকার এই সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করেছে।
যারা ২০০৯ সালে রাজোয়েলিনার ক্ষমতা দখলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, সেই ক্যাপস্যাট ইউনিট সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং অন্য সেনা ইউনিটকে সরকারের আদেশ অমান্য করার আহবান জানায়। আন্তানানারিভোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদে ১৩০-১ ভোটে রাজোয়েলিনার অভিশংসনের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। এমনকি রাজোয়েলিনার নিজ দল আইআরডি’র সদস্যরাও তার বিরুদ্ধে ভোট দেন। তবে, এই ভোট এখনও হাই কনস্টিটিউশনাল কোর্টের বৈধতার জন্য অপেক্ষমাণ। রাজোয়েলিনা এই ভোটকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
৩২ মিলিয়ন জনসংখ্যার মাদাগাস্কার ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছে। রাজোয়েলিনা ২০০৯ সালে ক্যাপস্যাটের সমর্থনে ক্ষমতা দখল করেছিলেন এবং এখন সেই একই ইউনিট তার পতন ঘটিয়েছে।
এদিকে হাই কনস্টিটিউশনাল কোর্টের রায় এখন গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাপস্যাটের ক্ষমতা দখল স্থিতিশীলতা আনতে পারে কি না, তা জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে। আপাতত, মাদাগাস্কারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
