দ্বীপ দেশ মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, সেনা বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা দেশটির নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেবেন। ইতিমধ্যে মাদাগাস্কারের সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সেনা ব্যারাক থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে র্যান্ড্রিয়ানিরিনা জানান, আগামী শুক্রবার মাদাগাস্কারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি শপথ নেবেন। উচ্চ সাংবিধানিক আদালত এ শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্রোহের পর দেশ ছেড়ে পালানো সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনার অনুপস্থিতিতে উচ্চ সাংবিধানিক আদালত তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
এদিকে নতুন সামরিক নেতৃত্ব দ্রুত একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবে, যিনি সরকার গঠন করবেন। তবে এটি কখন হবে তার সঠিক সময় এখনও অনির্দিষ্ট বলে জানান তিনি।

কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট ক্যাপস্যাটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে গেলো শনিবার (১১ অক্টোবর) জেন জি বিক্ষোভের মুখে রাষ্ট্রপতি আন্দ্রি রাজোয়েলিনা মাদাগাস্কার থেকে পালিয়ে যন।
রয়টার্সকে একটি সামরিক সূত্র জানায়, রাজোয়েলিনা রোববার (১২ অক্টোবর) একটি ফরাসি সামরিক বিমানে দেশ ত্যাগ করেন। ওই দিন একটি ফরাসি সেনা কাসা বিমান মাদাগাস্কারের সেইন্ট মারি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পাঁচ মিনিট পর একটি হেলিকপ্টার আসে এবং তাকে কাসায় স্থানান্তর করে।
ফরাসি মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে তাকে রিয়ুনিয়ন দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী গন্তব্য সম্ভবত দুবাই হতে পারে।
পুরো বিষয়টাকে অবৈধ অভ্যুত্থান বলেছেন রাজোয়েলিনা। দেশ ছাড়ার পর পার্লামেন্ট সদস্যরা তাকে অভিশংসিত করেছে। তবে তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশে গেলো ২৫ সেপ্টেম্বর পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দুর্নীতি, খারাপ শাসন এবং মৌলিক সেবার অভাবের মতো বৃহত্তর অভিযোগে রূপ নেয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। মধ্যবয়স ২০-এর নিচে মাদাগাস্কারে প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যা, যাদের তিন-চতুর্থাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ১৯৬০ সালের স্বাধীনতার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাথাপিছু জিডিপি ৪৫% হ্রাস পেয়েছে। দেশটি বিশ্বের অধিকাংশ ভ্যানিলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত, এছাড়া নিকেল, কোবাল্ট, টেক্সটাইল এবং চিংড়ি রপ্তানি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিক্ষোভ নেপাল, কেনিয়া এবং মরক্কোর মতো দেশে শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিক্ষোভকারীরা জাপানি অ্যানিমে সিরিজ ‘ওয়ান পিস’-এর খুলি এবং স্ট্র হ্যাটের প্রতীক ব্যবহার করছেন, যা এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিক্ষোভেও দেখা গেছে।
দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো একসঙ্গে কাজ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল।
মার্কিন চাপে পিছু হটলেন মোদী, রাশিয়া থেকে আর তেল কিনবে না ভারত