যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তার পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চারজন ফিলিস্তিনি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় সই করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি আন্তর্জাতিক শান্তি পরিষদের তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনের একটি টেকনোক্র্যাট সংস্থা অন্তর্বর্তী সময়ে গাজা শাসন করবে। তবে এই প্রশাসনে হামাসের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৪ সদস্যের এই ফিলিস্তিনি সংস্থাটির প্রধান হিসেবে থাকছেন আলি শাথ। তিনি পশ্চিমা-সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী ছিলেন এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলে ম্লাদেনভ এই এই পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের হাতে আসা সদস্য তালিকায় দেখা গেছে, ম্লাদেনভ এই সংস্থায় বেসরকারি খাত এবং এনজিও থেকে বেশ কিছু দক্ষ ব্যক্তিকে যুক্ত করেছেন।
নানা বাধা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ধাপে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছিল যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি। তবে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যু, হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি, শেষ এক ইসরাইলি জিম্মির দেহাবশেষ ফেরত না পাওয়া এবং মিশরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পারাপার পুনরায় খুলে দিতে ইসরাইলের গড়িমসির কারণে এই পরিকল্পনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও ট্রাম্প এখন দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ধাপে শান্তি পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যদিও শান্তিরক্ষী বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি।
হামাস জানিয়েছে, পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের নেতা ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলগুলো এখন কায়রোতে অবস্থান করছে। মিশরীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন হামাসের অস্ত্র সমর্পণের ওপর আলোচনার মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে। যদিও হামাস এ পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়নি; তাদের দাবি, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়বে না। উল্লেখ্য, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহার মূলত এই অস্ত্র সমর্পণের ওপর নির্ভর করছে।
প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট কমিটির সদস্যদের বুধবার কায়রোতে ম্লাদেনভের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। মিশরীয় ও ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, হামাস এবং ফাতাহ উভয় পক্ষই এই কমিটির সদস্য তালিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই তালিকায় গাজা চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান আয়েদ আবু রমাদান এবং ফিলিস্তিনি টেলিকমিউনিকেশন গ্রুপ প্যালটেলের সাবেক কর্মকর্তা ওমর শামালির নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যেভাবে ইরানকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভয়ে দেশ ছাড়ছেন ইরানিরা, তুরস্ক সীমান্তে ভিড়