ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এর ফলে ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো ভারতের প্রতিযোগী দেশগুলোর সমান সুযোগ তৈরি হলো মার্কিন বাজারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতে স্বস্তির হাওয়া বইলেও, চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।
গত বছর আগস্টে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়েছিলেন। তবে এবারের সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে এবং তার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছেন।
যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মোদী বলেন, এর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে।
৫৯ শতাংশ শুল্কের খড়গ ঝুলে থাকায় গত এক বছরে ভারতের টেক্সটাইল, সিফুড এবং গয়না রপ্তানি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন এই ঘোষণার ফলে, বস্ত্র রপ্তানিকারকরা এই সিদ্ধান্তকে বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন। মার্কিন বাজার ভারতের টেক্সটাইলের একক বৃহত্তম বাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন থেকে সাপ্লাই চেইন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারতের আবেদন এখন আরও বাড়বে। সস্তা শ্রম ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বহুজাতিক সংস্থাগুলো ভারতকে চীনের বিকল্প হিসেবে বেছে নেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় রুপি এবং পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গ্লোবাল ট্রেড অ্যান্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) মতো থিঙ্ক-ট্যাঙ্কগুলো সতর্ক করেছে, এখনো উদযাপনের সময় আসেনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত আগামীতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে, যেখানে বর্তমানে ভারত বছরে মাত্র ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনে।
এছাড়া কৃষি পণ্যে ছাড় দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভারত কতটা নমনীয় হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। ভারতের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি ক্ষেত্রে মার্কিন প্রবেশাধিকার দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের কারণে গত এক বছরে ভারত চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। বিশেষ করে চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়ার অঙ্গীকার এবং রাশিয়ার সঙ্গে ‘নো লিমিটস পার্টনারশিপ’ ওয়াশিংটনকে চিন্তায় ফেলেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এই শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে ট্রাম্প ভারতকে আবার মার্কিন বলয়ে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
এপস্টাইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন