মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের জেরে বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে গত দুই দিন ধরে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ইরানের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ আমেরিকার পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, আবার অনেকে নিরপরাধ মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলছেন। বিশ্ব জনমতের এই গভীর বিভক্তি এখন রাজপথে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার রাজধানী বাগদাদসহ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

অন্যদিকে, গত শুক্রবার ইয়েমেনের সানায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে নেমে আসেন। সেখানে তারা মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং হাতে অস্ত্র ও ছোরা নিয়ে লেবানন, ফিলিস্তিন ও হিজবুল্লাহর পতাকা উঁচিয়ে যুদ্ধের সমর্থনে স্লোগান দেন।
তুরস্কের আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ‘খুনি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ো’ এবং ‘ন্যাটো ধ্বংস হোক’- এমন উগ্র স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। এদিকে পাকিস্তানে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ গত শুক্রবার তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন শহরে মিছিল বের করেন।

লন্ডনে একদল বিক্ষোভকারী বর্তমান ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা এবং ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহর ছেলে রেজা পাহলভীর ছবি দেখা যায়। তারা ইরানের বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করেন।
অন্যদিকে, জার্মানির কোলন শহরে প্রতি বছরের মতো এবারও ‘ইস্টার পিস মার্চ’ বা ইস্টার শান্তি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ ‘ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো’ এবং ‘যুদ্ধকে না বলুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্বশান্তির আহ্বান জানান।

ইসরাইলের তেল আবিবে গতরাতে এক বিরল শান্তিবাদী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা নিজেদের হাতে ‘যুদ্ধ থামাও’ লিখে শান্তির দাবি জানান। তবে ইসরায়েলি পুলিশ এই যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে বাধা দেয় এবং অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু রণক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিভেদ তৈরি করেছে। একদিকে যেমন রণহুঙ্কার শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ শান্তিকামী মানুষ একটি মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর আকুতি জানাচ্ছেন।
