প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজ শরিফের নির্বাচিত হওয়া পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি ইতিহাস। কারণ, এর আগে দেশটিতে পরপর দুই মেয়াদে কোনো রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হননি। শাহবাজ শরিফ কীভাবে প্রাদেশ থেকে দেশের শাসন ক্ষমতা পেলেন, কীভাবেই বা নওয়াজ শরিফের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে পৌঁছলেন, তার সেই রাজনৈতিক যাত্রাটাই এক নজরে দেখে নেয়া যাক।
২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের পিটিআইয়ের পতনের পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠিত হয়েছিল। তখন তার প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৬ মাসের মতো। ২০২৩ সালের অগাস্টে তার সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় দফায় ২৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে ভাষণে পাকিস্তানের চলমান নানা সংকট এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধানের কথা তুলে ধরেন শাহবাজ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানে বিদেশি ঋণের সংকট ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করেছে। হয় এই ঋণ থেকে পাকিস্তানকে বের হতে হবে, না হয় লজ্জায় মাথা নত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
১৯৯৭ সালের পর যখনই নওয়াজ শরিফের দল ক্ষমতায় এসেছে, প্রতিবারই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নওয়াজ এবং শাহবাজ শরিফ পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পাঞ্জাবে শাহবাজ শরিফ প্রায় ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
শাহবাজ লাহোরের একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৫ সালে তিনি প্রথম পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। ওই সময় শাহবাজ লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট হন। এরপর ১৯৮৮ সালের সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন শাহবাজ। ওই বছরের নির্বাচনে জিতে পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন তিনি।
বড় ভাই নওয়াজ শরিফের তুলনায় শাহবাজ রাজনীতিতে সবসময় গৌণ ভূমিকা পালন করতেন। শাহবাজ শরিফ তার পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন। পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরে তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন । ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে পিএমএল-এন জয়লাভ করলে শাহবাজ শরিফ প্রথমবারের মতো পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

পাঞ্জাবে শাহবাজ শরিফ প্রায় ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দশ বছরের শাসনামলে, তিনি একজন কঠোর প্রশাসক হিসাবে পরিচিতি পান। এছাড়া ১৬ থেকে ১৭ মাসের মতো প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি তার দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
শাহবাজ দীর্ঘদিন ধরেই একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত। আগের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মোটাদাগে তাঁর দুটি সাফল্য ছিল। এক, একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক জোটের সরকারকে টিকিয়ে রাখা। দুই, ২০২৩ সালের শেষ ভাগে এসে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থ ছাড়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে স্বল্প সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে তিনি যেমন সুনাম অর্জন করেছিলেন তেমনি অরেঞ্জ লাইনের মতো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য তিনি সমালোচনারও মুখোমুখি হন । তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলা দায়ের হলেও কোনও মামলায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে নিহত ৩৬