ইউক্রেনের সেনারা সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। এর জেরে ওই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের বাহিনী গত মঙ্গলবার ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বুধবারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সিএনএনের একপ্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ অনুপ্রবেশকে বড় মাত্রার উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দিয়ে বেসামরিক ও আবাসিক ভবনে এবং অ্যাম্বুলেন্সে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।
তবে, এসব অভিযোগ নিয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। সেই সঙ্গে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এছাড়া ইউক্রেনের সেনারা রুশ ভূখণ্ডে এখনো আছে কিনা- সেই সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি।
রুশ কর্তৃপক্ষ এবং সামরিক ব্লগাররা বলেছে, রাশিয়ায় ঢুকে ইউক্রেনের বাহিনী স্থল ও আকাশপথে সুদজা শহরের কাছে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় ৩১ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন শিশুও রয়েছে।
মস্কো জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা, ১১টি ট্যাঙ্ক এবং ২০টিরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধ যান সুডজা শহরের কাছ দিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিল।
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি গ্রামে লড়াই হওয়ার কথা জানা গেছে। বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে সেখানে সব ধরণের জনসমাবেশও বাতিল করা হয়েছে।
কুরস্কে বেশ কয়েকটি বিমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানায় বিবিসি। অনলাইনে প্রকাশিত ফুটেজে যুদ্ধবিমানগুলোকে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। এসময় স্থলভাগ থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়। বিবিসি এই ফুটেজগুলো যাচাই করেছে।
এদিকে, হামলার মুখে স্থানীয় সময় বুধবার কুরস্ক অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সি স্মিরনভ বলেছেন, ‘অঞ্চলটিতে শত্রু বাহিনী আসন্ন পরিণতি দূর করার জন্য’ এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজনীয় ছিল।
রুশ সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়ার দাবি ইউক্রেনের