ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকা সংঘাতের রেশ ধরে রোববার সকালে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলায় কুয়েতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই সময়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, কর্তব্যরত অবস্থায় দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েত সেনাবাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, রোববার ভোরে একঝাঁক ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি মজুত কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া কুয়েতের পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির ২২ তলা ভবনটিতে একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। সিএনএন-এর যাচাইকৃত ফুটেজে ভবনটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ভোরে তারা কমপক্ষে ২১টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

বাহরাইনের একটি পানি শোধন কেন্দ্রে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলা হলেও দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি কর্তৃপক্ষ সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের পানীয় জলের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ ভাগ এই শোধন কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রোববার ভোরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা করেছে।

এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন মাত্র একদিন আগে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে গত এক সপ্তাহের হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় সহযোগিতা না করে, তবে ইরান তাদের ওপর আর হামলা চালাবে না। কিন্তু রোববারের এই ব্যাপক হামলা পেজেশকিয়ানের সেই আশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক দেশই তাদের বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
সাইপ্রাসে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে ইতালি: মেলোনি