মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের চার সপ্তাহ পেরিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন, অন্যদিকে তেহরান একে একদম ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে আমেরিকাকে ‘ডুবিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরানা-তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির নবনিযুক্ত সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সোজা জানিয়েছেন, আমেরিকাকে বাঁচানোর সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত করলে তার জবাব আর ‘চোখের বদলে চোখ’ হবে না, বরং হবে ‘চোখের বদলে মাথা’। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান মার্কিন বাহিনীকে পঙ্গু করে দেবে এবং উপসাগরের পানিতে তাদের জাহাজ ডুবিয়ে ছাড়বে।
রেজাই এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইসরাইল মূলত ‘গ্রেটার ইসরাইল’ তত্ত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই যুদ্ধের ফাঁদে ফেলেছে। তাঁর মতে, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন হবে না- এমন আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চিয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। তবে ট্রাম্পের সুর এখন কিছুটা নরম।
গত সোমবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, গত দুই দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার জের ধরেই তিনি পেন্টাগনকে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ভয়ে আমেরিকার ‘পিছু হটা’ হিসেবে চিত্রায়িত করছে। তবে আলোচনার পুরো বিষয়টিকেই অস্বীকার করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ইসরাইল-আমেরিকা যে চোরাবালিতে আটকে গেছে তা থেকে বাঁচতেই এই ধরনের ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানো হচ্ছে। কলিবাফ আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ এবং সকল কর্মকর্তা তাদের সর্বোচ্চ নেতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ এবং তারা আগ্রাসীদের চরম শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: ইরনা ও এনডিটিভি
ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে পারবেন?
ইরানের নতুন নিরাপত্তা প্রধান হলেন জোলকদর