মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দেশের সাধারণ জনগণকে সামরিকভাবে প্রস্তুত করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির বিভিন্ন শহরের মসজিদে সাধারণ পুরুষ ও নারীদের জন্য বিশেষ প্রতিরক্ষা এবং অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।

গত শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে দেশ রক্ষায় ‘জনগণের প্রকাশ্য প্রস্তুতি’র অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আহভাজ, কেরমান, বিজার, শিরাজ ও জাহেদানসহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহরের মসজিদে এই ধরনের গণ-প্রশিক্ষণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা লিঙ্গের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবার, যুবক-যুবতী এবং বিপুল সংখ্যক কিশোর-কিশোরীও এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে।

মসজিদের ভেতরে আয়োজিত এই সেশনগুলোতে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন ধরনের হালকা অস্ত্রের (লাইট ওয়েপনস) সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, অংশগ্রহণকারীদের শুধু অস্ত্র চালানোই নয়, বরং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে শেখানো হচ্ছে কীভাবে এসব হালকা অস্ত্র পরিচালনা করতে হয় এবং কীভাবে সেগুলোকে খুলে আবার পুনরায় জোড়া লাগাতে হয়। এছাড়া অনেককে দলগতভাবে বিভিন্ন সামরিক ড্রিল বা কুচকাওয়াজেও অংশ নিতে দেখা গেছে।

ইরানের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মসজিদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান যুদ্ধকালীন বা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচেতনতা গড়ে তুলতে সরকার মসজিদগুলোকে বেছে নিয়েছে।

নারী, পুরুষ ও কিশোরদের এই অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, যে কোনো সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী বেসামরিক প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল তৈরি করা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
