ইরানের আকাশে একের পর এক ভূপাতিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি রিপার হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা দেশটির মোট রিপার বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এসব ড্রোন হারিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি— যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় মার্কিন আকাশশক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এমকিউ-৯ রিপার আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ড্রোনটির সক্ষমতার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে।
![]()
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপার আকারে বড়, তুলনামূলক ধীরগতির এবং এতে স্টেলথ প্রযুক্তি নেই। ফলে শক্তিশালী ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এটি সহজেই শনাক্ত ও আক্রমণের শিকার হতে পারে। মূলত এমন পরিবেশে ব্যবহারের জন্য রিপার তৈরি করা হয়নি। বরং যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আকাশে প্রায় নিরঙ্কুশ আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, সেখানেই এর কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি।
লন্ডনের কিংস কলেজের এয়ার পাওয়ার বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডসনের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পশ্চিমা যুদ্ধকৌশলের একটি বড় দুর্বলতা সামনে এনেছে। তা হলো—অত্যন্ত উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। উচ্চমাত্রার যুদ্ধের সময় এসব অস্ত্র দ্রুত প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে তা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রিপারের উচ্চ মূল্যও এখন উদ্বেগের কারণ। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ এমকিউ-৯ রিপারের দাম প্রায় ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে রয়েছে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়। ফলে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষার মুখে ব্যয়বহুল এই ড্রোন হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই বড় চাপ তৈরি করছে।
তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও রিপারকে অকার্যকর মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেনেথ উইলসবাখ এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এমকিউ-৯-কে সবচেয়ে মূল্যবান প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে নজরদারি ও হামলা চালানোর সক্ষমতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ড্রোনটির।
এদিকে রিপারের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র কম খরচের ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানের তৈরি সাহেদ ড্রোনের মতো কার্যকর প্রযুক্তি নেই।
পেন্টাগন এমন ড্রোন চাচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে ব্যাপকভাবে উৎপাদন ও যুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। কারণ শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল ড্রোনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তাই শুধু মার্কিন ড্রোন বহরের বড় ক্ষতির চিত্রই সামনে আনেনি; একই সঙ্গে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল ও স্টেলথবিহীন ড্রোন ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করেছে।
ক্রিমিয়ায় শীর্ষ রুশ কর্মকর্তা নিহতের পেছনে সুন্দরী নারী!
মডেল রিধির আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ব্যবসায়ী কারাগারে
মস্কোসহ রাশিয়ার ১৭ অঞ্চলে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা
ভয়াবহ রুশ হামলায় কিয়েভের বাজারে আগুনের ধ্বংসলীলা