ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ, বুদ্ধিজীবী এবং গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চিঠিতে আইআরজিসি সাধারণ আমেরিকানদের তাদের সরকারের দখলদারিত্ব ও ইসরাইলঘেঁষা নীতি থেকে নিজেদের আলাদা করার আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সাত মাস আগে শুরু হওয়া অন্যায় যুদ্ধে মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬৮ শিশু হত্যা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির শাহাদাত সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও অস্ত্রের বিচারে বহুগুণ শক্তিশালী মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক বাহিনীকে ইরান শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য যে এখন সম্পূর্ণ ভঙ্গুর, এই যুদ্ধের পরিণতিতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।
চিঠিতে ইরান তাদের এই অভাবনীয় সামরিক ও কৌশলগত বিজয়ের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে, কোরআনের উচ্চতর জীবনদর্শন, দেশটির জনগণের অটল ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক কারবালার চেতনা এবং নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা ইমাম সাইয়েদ মোজতবা খামেনির যোগ্য ও ঈমানি নেতৃত্ব।
আইআরজিসি দাবি করেছে, ৪,০০০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেটের মার্কিন সামরিক বাহিনী নীতি ও নৈতিকতাহীনতার কারণে একটি ‘কাগজের বাঘে’ পরিণত হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লোভ ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের এই ঐতিহাসিক বিপর্যয় ঘটেছে।

অন্যদিকে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ভারত মহাসাগরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন এবং ইরানি জনগণ মূলত একই অত্যাচারী হোয়াইট হাউসের শাসকগোষ্ঠীর শিকার উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, তাদের লড়াই আমেরিকান জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইহুদিবাদী ক্যাপিটালিস্টদের স্বার্থে চলা মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে।
চিঠির শেষাংশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, দখলদারিত্ব ছেড়ে ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলিদের একদিন বিদায় নিতেই হবে এবং এরপর দুই জাতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্পূর্ণ সম্ভব। ইতিহাস ও কোরআনের উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইআরজিসি চূড়ান্তভাবে হুঁশিয়ার করেছে, পরম করুণাময় খোদা অন্যায়কারী ও শোষকদের পক্ষ নেন না, বরং বিশ্বাসী নিপীড়িতদেরই বিজয়ী করেন।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
