পশ্চিমবঙ্গে আরজি করকাণ্ডের জেরে রাজ্যটিতে এখন টালমাটাল অবস্থা। সেই হাসপাতালে ভয়ঙ্কর এক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিদিনই কোন না কোন প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত নিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক হাসপাতালে এক নার্স শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, শনিবার রাতে বীরভূম জেলার ইলামবাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক নার্স ডিউটিতে থাকার সময় এক রোগীর দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।
ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সেই অভিযুক্ত রোগী স্যালাইন দেয়ার সময় নার্সকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিল বলে জানা গেছে। নার্স অভিযোগ করেছেন, জরুরি বিভাগে তার সাথে দেখা করার সময় রোগী তাকে শ্লীলতাহানি করেছেন। ঘটনার সময় অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
ঘটনা সম্পর্কে ওই নার্স বলছিলেন, পুরুষ রোগী আমার সাথে দারুণ দুর্ব্যবহার করেছিলেন এবং আমি যখন চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে সেবা দিচ্ছিলাম, সেই সময় রোগী আমার গোপনাঙ্গে স্পর্শ করেছিলেন। এনিয়ে দৃষ্টি আকষণ করা হলে সেই রোগী আমার সঙ্গে মৌখিক গালিগালাজ করতে থাকেন।
সেই রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে নাস আরও বলেন, নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। অন্যথায়, একজন রোগী কীভাবে তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কর্তব্যরত নার্সের সাথে এমন কাজ করার সাহস করতে পারে। এই ধরনের আচরণ বন্ধে কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যবস্থাও নেয় না।
এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রোগীকে আটক করে।
গত ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলে স্নাতকোত্তর শিক্ষানবিশ ডাক্তারের মৃতদেহ উদ্ধারের পর কয়েক সপ্তাহ পর এই ঘটনাটি ঘটলো। নৃশংস সেই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিজেপিসহ ছাত্র-জনতা বিচার দাবি প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছে।
ঘটনার পরে, অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় কীভাবে দিনের সব সময়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হাসপাতালের প্রতিটি কোণে অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে তিনি টাকার বিনিময়ে রোগীদের জন্য বেআইনিভাবে হাসপাতালের বিছানা এবং অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করবেন।
মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের