তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েচেন থালাপাতি সি. জোসেফ বিজয়। গত চার দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা শেষে রোববার তিনি সোজা জানিয়ে দেন, তামিলনাড়ু প্রশাসনে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হবে শুধু একটিই, আর সেটি হলেন তিনি নিজে। কোনো জোটসঙ্গী বা বাইরের শক্তির চাপে তাঁর সরকার পরিচালিত হবে না বলে কড়া বার্তা দেন এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ। তিনি জানানম তামিলনাড়ু প্রশাসনে তিনিই শেষ কথা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বিজয় বলেন, আমার বাইরে ক্ষমতার অন্য কোনো উৎস থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র। তাঁর এই মন্তব্যটি মূলত ভোটারদের আশ্বস্ত করার জন্য, সরকার পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোনো মিত্রদলের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না।

বিরোধীদের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজেকে তামিল জনগণের ‘থাম্বি’ (ছোট ভাই) হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজে কোনো অন্যায় করব না এবং আমার সাথে থাকা কাউকেও অন্যায় করতে দেব না। যদি কারও মনে অশুভ কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা এখনই মুছে ফেলুন।
টিভিকে) এককভাবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় ডিএমকে’র জোটসঙ্গীদের সমর্থনে সরকার গঠন করেন বিজয়। ভাষণে তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া সিপিএম, ভিসিকে এবং সিপিআই নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি নিজের দলের কর্মী ও ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’।
নিজেকে তামিল জনগণের ‘মামা’ হিসেবে সম্বোধন করে বিজয় বলেন, আমি কোনো দেবদূত নই, আপনাদের মতোই সাধারণ একজন মানুষ। আমি এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দেব না যা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি সময় চেয়ে নিয়ে বলেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার তিনি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবেন এবং জনগণের একটি পয়সাও অপচয় হতে দেবেন না।

এদিকে, কংগ্রেস, সিপিএম এবং ভিসিকের মতো সমর্থনকারী দলগুলোর নেতারা এখনই শপথ নেননি। দপ্তর বণ্টন নিয়ে আলোচনা শেষ হলে পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সিনেমার ব্লকবাস্টার থ্রিলারের মতো সরকার গঠনের পর এখন বিজয়ের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ‘একক ক্ষমতা’র যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা জোট সরকারের জটিল সমীকরণে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ভারত।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
