নাগরিকদের তথ্য ফাঁসের কারণ খুঁজে পেয়েছে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে তারা প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা ও কারিগরি দুর্বলতার কারণে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে।
সোমবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পলক বলেন, কতগুলো ডেটা ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তাই ৫ মিলিয়ন ডেটা ফাঁস হওয়ার দাবি গ্রহণ করা বা বাদ দেওয়া যাচ্ছে না।’
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ‘ডার্ক ওয়েবে বা ব্ল্যাক মার্কেটে ফাঁস হওয়া তথ্য বিক্রির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি।’
প্রতিবেদন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের কারিগরি দুর্বলতাকে মূল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যথাযথ কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন লোক না থাকায় তাদের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি।
এছাড়া তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচটি সুপারিশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আরও ছয়টি সুপারিশ করেছে।
গেলো সাত জুলাই রাত আটটার দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, সরকারি একটি ওয়েব সাইট থেকে লাখ লাখ বাংলাদেশির নাগরিক তথ্য ফাঁস হয়েছে। মুহূর্তেই সরগরম হয়ে ওঠে দেশ।
পরদিন জানা যায়, আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটের তথ্য আছে ঝুঁকিতে। মূল কারণ খুঁজতে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। সেই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকেও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত কমিটি।
পলক বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ডেটা এবং ন্যাশনাল আইডির সাথে সম্পর্ক নেই। ফলে জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে ঝুঁকি নেই। এছাড়া
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো বায়োমেট্রিক তথ্য ছিল না।
তথ্য ফাঁস নিয়ে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সোমবারের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর তদন্ত কমিটির সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
একাত্তর/এসি/আরবি
