আন্তর্জাতিক বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলে ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান শক্ত করেছে বলে একটি আলোচনায় মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তবে অর্থনৈতিক সুশাসন, রাজনৈতিক সমতা আনা এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার চ্যালেঞ্জ এখনো সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ মত দেন তারা।
‘নতুন সংসদ ও সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু।
আলোচনায় বিশিষ্টজনের বলেন, সরকারের ইমেজ পরিবর্তনের একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া সরকার যে উন্নয়ন করেছে তার সুফল জনগণ ভোগ করলেও অনেক তথ্য রয়েছে, যা জনগণ জানতে চায়। কারণ সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতেও ইমেজ পরিবর্তন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ দরকার উল্লেখ করে তারা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তেও সরকারকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।
আলোচকরা বলছেন, বর্তমান সরকারপ্রধান ভূরাজনীতি মোকাবেলায় সফল। তবে সামনের দিনগুলোতে চীন ও ভারতের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্রনীতি বহাল রাখাটাও চ্যালেঞ্জিং হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সরকার চারটি শর্ত পূরণ করতে পারলে আগামী ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে সব ধরনের নেতিবাচক বিষয় দুর হয়ে যাবে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইমেজ পরিবর্তন করা, তথ্য-উপাত্ত সামনে আনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে উপরের দুই বিষয়কে একত্রিত করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ভূরাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিস্তা যদি হয়, এটি ভারতের বিরাট লাভ। আমি মনে করি, ভারতের উইন উইন সিচুয়েশন হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেনও সরকারের সামনে থাকা চারটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এখনো কোনো পণ্যের দাম কমে নাই, গত ১৫ বছরে কোনো সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা ছিলো না, ১৮ কোটির দেশে অনেক মতবাদ থাকবে এবং ভূরাজনীতি অর্থাৎ চায়না ও ভারতের প্রভাব।
সাখাওয়াত বলেন, এই চারটি জায়গায় সরকারকে সফল হতে হবে। তিস্তা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। কারণ এগিয়ে আসছে চীন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন পুরোনো মিলে মন্ত্রীসভা। যারা ড্রপ হয়েছে তাদের সমস্যা ছিলো।
আমাদের নতুন সময়ের ইমিরেটাস সম্পাদক নাঈমূল ইসলাম খান বলেন, শেখ হাসিনাকে টেনে নামানোর প্রয়াস ছিল বিরোধীদল ও অনেক দেশের। শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ এই তথ্য মনে রেখে এগিয়ে যাওয়া। এই চেষ্টা এখনো আছে। ড. ইউনুস, মতিউর রহমান, মাহফুজ আনামদের অ্যাজেন্ডা এটা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, গণতান্ত্রিক সম্প্রসারণটা পিছিয়ে গেছে, ধ্বংস করেছি। এটিকে সঠিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে।
কে হবে বিরোধী দল-এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাম বা জাতীয় পার্টি বা স্বতন্ত্র সকলেই ভাগাভাগি করে নিয়েছে আসন। ফলে তারা সবাই এক।
সরকারি লোকেরাই দেশের ব্যাংকিং খাতের সর্বনাশ করেছে মন্তব্য করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বড় সমস্যা হলো বাস্তবায়ন। তাড়াহুড়া করে করতে গিয়ে চুরির সুযোগ বাড়ে। বাস্তবায়ন সঠিকভাবে না না হলে লক্ষ্য পূরণ করা যাবে না।
আর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দুষ্টচক্র বা সিন্ডিকেট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা তাড়াতাড়ি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে। মূল্যস্ফীতি ভারতে কমেছে। কারণ, সেখানে দুষ্টচক্র রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
দুষ্ট চক্র বা সিন্ডিকেট বন্ধ করতে না পারলে কোনো লক্ষ্যই বাস্তবায়ন হবে না বলেও মন্তব্য করেন খলিকুজ্জামান আহমদ।
গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার।
‘নির্বাচনের সফলতা নির্ভর করছে ভোট পরবর্তী সুশাসনের ওপর’