সবুজ চা পাতা আর কালচে তামাটে হাত, সেই তামাটে হাতের নারীদের তোলা চা পাতা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সেই প্রদীপের নিচেই অন্ধকার। এখনও নারীদের মজুরি থেকে শুরু করে আবাসন সঙ্কট এই সমস্যাগুলো এখনও শেষ হয়নি।
তবুও তারা ঘাম ঝরাচ্ছেন চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে।
সকালে আলো ফোটার সাথে সাথেই শুরু হয় নারী চা শ্রমিকদের কর্মব্যস্ত দিন। সংসারের কাজ সেরে ছুটে চলা বাগানের চা পাতা তুলতে। শীত, বৃষ্টি বা রোদ কোনদিনই এসবের হেরফের হয় না।
মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগানের সংখ্যা ৯৭টি। এসব বাগানে কাজ করা ৭০ হাজার চা শ্রমিকের বেশিরভাগই নারী। কর্মক্ষেত্রে এসব নারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কোনো শৌচাগার নেই। তাছাড়া কোনো ছাউনি না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে ভুগতে হয় নানা রোগে।
আবার বৈষম্য রয়েছে মজুরিতেও। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, নারী-পুরুষের মজুরি দৈনিক ১৭০ টাকা হলেও, অনেক বাগানে নারীদের দেয়া হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা মনে করেন, সবাই মিলে কাজ করতে পারলে দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে শোষণের শিকার এইসব শ্রমিকদের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, চা শ্রমিক নেতাদের দাবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসা, সুরক্ষা, বাসস্থান, ভূমির অধিকার ও মজুরি বৃদ্ধি।
তবে আশার কথা চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করছে শ্রম অধিদপ্তর। অনেক বাগানে নারী চা শ্রমিকদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে শৌচাগার, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্তানসম্ভবা হলেই কর্মজীবী নারী হয়ে ওঠেন প্রতিষ্ঠানের বোঝা 