আত্মশুদ্ধি আর অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শপথের মধ্য দিয়ে সোমবার উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদে আনন্দ আয়োজনের সঙ্গে ত্যাগের আবাহন আর প্রত্যাশা ফুটে উঠে বেশিরভাগের মাঝে। তাইতো ‘শহীদী ঈদ’ কবিতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘মনের পশুরে কর জবাই/ পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’
যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুয়ায়ী পশু কুরবানি করবেন। দাঁড়াবেন অন্যের পাশে, যাদের ঈদ উদযাপনের সামর্থ্য নেই।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
কখন কোথায় ঈদের জামাত
এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান।
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করার জন্য ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর গোলারটেক মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায়। এলাকাবাসীর সঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ডিএনসিসির কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তারা এই জামাতে অংশগ্রহণ করবেন।
এবারও কিশোরগঞ্জে শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার সকাল ৯টায় শুরু হবে এই ঈদ জামাত। ইমামতি করবেন বড়বাজার জামে মসজিদের ইমাম হিফজুর রহমান খান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের চলাচলের জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে ভোর থেকেই।
প্রতিবছরের মতো এবারও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সকাল ৭টায় অনুষ্ঠেয় প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির থাকবেন জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন (অব:) হাফেজ ক্বারী মো. আতাউর রহমান।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জামাতে সর্বস্তরের মুসল্লিদেরকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সারাদেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সরকারি সংস্থার প্রধানরা জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করবেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কেউ যেন আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়: রাষ্ট্রপতি
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করে এবং কুরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বন্ধে সকলে সচেষ্ট থাকবেন
তিনি বলেন, কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব জাগ্রত করে এবং সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। নানাবিধ যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সংঘাত-সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মানুষ নানা প্রতিবন্ধকতা ও কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে ও বিনা চিকিৎসায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্বজনহারা বেদনায় গভীর শোক আর নিদারুণ কষ্টে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। তাদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা ও সমর্থন যোগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদের খুশিতে তারাও যাতে শরিক হতে পারে সে চেষ্টা চালাতে হবে। কেউ যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে আমি দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হোক- এটাই সকলের কাম্য।
আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, ঈদুল আজহা শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, প্রতি বছর এ উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে সচ্ছল মুসলমানগণ কোরবানিকৃত পশুর গোশত আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে মানুষে-মানুষে সহমর্মিতা ও সাম্যের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের সকল পর্যায়ে মুসলমানদের ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক- এই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে। আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আজীবন স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, উন্নত-সমৃদ্ধ আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র দিনে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বাংলাদেশ এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি।

বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুতি
কোরবারি পশুর রক্ত বা বর্জ্য পদার্থে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ) এলাকায় সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হবে। উত্তর সিটি ছয় ঘণ্টার মধ্যে এবং দক্ষিণ সিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকায় বর্জ্য অপসারণে কাজ করবেন ১০ হাজার ২৫৭ জন কর্মী। আর ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন এলাকায় এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন ৯ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, বর্জ্য অপসারণের কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় দক্ষিণ সিটির প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হবেন। অনলাইনে যুক্ত হবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও। পরে বেলা ২টায় অপসারণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, মিরপুরের প্যারিস রোড মাঠে কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারিত করা হয়েছে। গোলারটেক মাঠে ঈদের জামাত শেষে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ওই মাঠে গিয়ে কোরবানির কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের সময়ই যেকোনো ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে দুপুরে খাবার খাবেন। শেষে বেলা দুইটার দিকে যেকোনো একটি ওয়ার্ড এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
কোরবানির হাট ও পশুর বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হল থেকে এ নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালিত হবে। ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে পরদিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে বাসিন্দারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে ফোন করে তথ্য ও অভিযোগ জানতে পারবেন।
এর বাইরে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা যেখানে-সেখানে অস্থায়ী বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধে ছয়জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োজিত করা হয়েছে। কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজ তদারকির জন্য দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ ১০টি দল গঠন করেছে।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষও। বাসিন্দারা বর্জ্য অপসারণ কাজ নিয়ে যেকোনো তথ্য কিংবা অভিযোগ সিটি করপোরেশনের ১৬১০৬ নম্বরে কল করে জানাতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড ও অঞ্চলভিত্তিক তদারকি দলও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুরের প্যারিস রোড মাঠে পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত করা জায়গায় কোরবানি দিলে প্রণোদনা হিসেবে গরু প্রতি এক হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। এর বাইরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও অন্তত ১০০টি পশু একসঙ্গে কোরবানি দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কোরবানির হাটের বর্জ্য ও কোরবানির পশুর বর্জ্য পৃথকভাবে অপসারণ করবে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাদের ৫৬০টি যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত থাকবে। আর হাটের বর্জ্য অপসারণে ৫৭টি ডাম্প ট্রাক, ১২টি পে-লোডার ও ১১টি টায়ার ডোজার নিয়োজিত করা হবে। আর ঢাকা উত্তর সিটি বিভিন্ন এলাকায় ৫২০টি ভারী যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া দুই সিটিতেই পলিব্যাগ, ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন, টুকরি ও ফিনাইল বিতরণ করা হয়েছে।
ঈদের সকালে কোথাও কোথাও বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঈদের দিন ভোরে বৃষ্টি না হলেও সকালে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা বেশিক্ষণের জন্য বা দিনভর হওয়ার শঙ্কা নেই।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অন্য এলাকায় মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ঈদের দিন ভোরে ঢাকায় বৃষ্টি না হলেও সকাল ৯টা নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী নাও হতে পারে। বৃষ্টি হলে তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের হতে পারে।
এদিকে ঈদের সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় তাপপ্রবাহ আছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকতে পারে।
দেশে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন
ঈদের দিনের আবহাওয়া নিয়ে যা জানা গেলো
ঈদে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ধ্বংসস্তূপে গাজায় বিবর্ণ ঈদ