বন্যায় সারাদেশে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছে বহু মানুষ। বন্যার পরে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সঙ্কট বেড়েছে বানভাসি মানুষের। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুর্নবাসন বেশ কঠিন হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করার তাগাদাও দিচ্ছেন তারা।
স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা। এ পর্যন্ত ১১টি জেলার ৭৩টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত। এতে বুধবার বেলা ১টা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এখনো পানিবন্দী ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৪টি পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৭৩৪, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত ছিল ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৪ হাজার ৩টি। এগুলোতে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯ হাজার ৫৩১টি গবাদিপশুকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিতে শহররক্ষা বাঁধ ভেঙেছে বহু জেলায়। বন্যায় তছনছ হয়েছে বিভিন্ন জেলার রাস্তাঘাট। বিধ্বস্ত হয়েছে শতশত ঘরবাড়ি হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছে বহু মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৪ কিলোমিটারের মতো বাঁধ ভেঙ্গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসন করাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। পানিবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোরও তাগিদ দিচ্ছেন তারা। আর্থিক সংকট দূর করতে হলে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ ও নদী গবেষণাকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি)। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে যে বন্যা হয়েছে, সেটি অস্বাভাবিক। অল্প সময়ে অনেক বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে, ফলে বন্যা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতিও অনেক বেশি হবে।

তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলের নদী তীরের বাধগুলো নিয়ে আরও ভাবতে হবে। আগামীতে বন্যা হলেও যাতে পানি লোকালয়ে আসতে না পারে, সেভাবেই বাধ নির্মাণের কাজ নিতে হবে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই সবার আগে দরকার পূর্নবাসনের কাজে দ্রুত হাত দেয়া। এই কাজটি চ্যালেঞ্জিং।
পরিবেশবিদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দেশের যে কোন জেলায় বড় বড় দুর্যোগ হতে পারে। তাই দুর্যোগ সহনীয় স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি আগে থেকেই দুর্যোগের সময় এবং পরে সংকট মোকাবেলায় সব জেলাতেই পরিকল্পনা রাখতে হবে। সেই ক্ষেত্র পুর্নবাসনের ক্ষেত্রে দুর্গম এলাকার দিকে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন এই পরিবেশবিদ।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১