দেশের উত্তর পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে বন্যায় প্রায় আট হাজার কিলোমিটার সড়ক ও এক হাজার ১০১টি সেতু-কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবরণীতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ত্বরিত মেরামতের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এলজিইডি হতে পাওয়া তথ্যমতে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত হাজার ৭২২ কিলোমিটার রাস্তা এবং এক হাজার ১০১টি ব্রিজ ও কালভার্ট। এ পর্যন্ত এলজিইডি মেরামত করেছে ৫১ কিমি রাস্তা এবং ৯৬টি ব্রিজ ও কালভার্ট।
উজানের তীব্র ঢল এবং অতি ভারী বৃষ্টির কারণে গত ২০ আগস্ট থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজারে বন্যা দেখা দেয়। গত ৯ দিনে ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। এর মধ্যে ফেনীরই সবচেয়ে বেশি ১৭ জন। এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৫ লাখের বেশি।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, বন্যা দুর্গত এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সব দপ্তর, সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠান।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
২৯ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দুর্গত ১১টি জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার পরিশোধন ট্যাবলেট, ২৩ হাজার ৯২৭টি জেরিকেন এবং ইউনিসেফের সহায়তায় ৪ হাজার ১৩৭টি হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ৬৩ হাজার ২৭৪ জনকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
উদ্ধার করা হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৩২৮ জন মানুষ এবং আশ্রয়কেন্দ্রে এক লাখ ৩৪ হাজার ৩২০ জনকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
সারা দেশে আটটি (ফেনী পাঁচটি, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় একটি করে) মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) এখন পর্যন্ত এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৫ লিটার নিরাপদ খাবার পানি বিতরণ করেছে।
বন্যায় মৃত্যু ছাড়ালো অর্ধশত, সর্বোচ্চ ফেনীতে 