বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে চীন, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। তিনি জানান, বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে তিনটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবে চীনা বিনিয়োগকারীরা।
রোববার (১৩ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীন একটি এক হাজার শয্যার হাসপাতাল উপহার হিসেবে দিচ্ছে। হাসপাতালটি উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফমারীতে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উইথ রোবোটিক ফিজিওথেরাপি সাপোর্ট সেন্টারের যন্ত্রপাতি চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শাহবাগের বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (আগের বিএসএমএমইউ) তৈরি হচ্ছে এই সেন্টার।
আরও ৫২ জনকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে পাঠানো হবে পাকিস্তানে ও ২১ জনকে তুরস্কে পাঠানো হবে।
উপদেষ্টা জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আহত ৪৩ জনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন আরও ৫২ জনকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে পাঠানো হবে পাকিস্তানে ও ২১ জনকে তুরস্কে পাঠানো হবে।
তিনি জানান, আহত ২৬ জনকে ব্যাংককে, ১৬ জনকে সিঙ্গাপুরে এবং একজনকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এক রোগীর জন্য সাড়ে ছয় কোটি এবং আরেকজনের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার।
চিকিৎসার জন্য যাদের বিদেশে পাঠানো হয়েছে বা হবে, তাদের ৭০ শতাংশ সাধারণ মানুষ। বাকি ৩০ শতাংশ ছাত্র; যোগ করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
এসময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, ঘটনার এতো মাস পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ব্যক্তিদের পাকিস্তানে কেন পাঠানো হবে; পাকিস্তানে কি উন্নত চিকিৎসা আছে? জবাবে নূরহাজান বেগম বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় তাদের পারদর্শিতা আছে। লাহোরে এ ধরনের রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষ হাসপাতাল আছে।
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে এ পর্যন্ত ৮৬৪ জন শহীদের তালিকা করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছেন। তবে এই সংখ্যায় পরিবর্তন আসছে। প্রকৃত নিহত ও আহত ব্যক্তির তথ্য যাচাইয়ের কাজ এখনো চলমান।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, সাভারের ধামরাইয়ে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ৫০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে চায় চীন। এই দুটি হাসপাতালের জন্য জমি পরিদর্শনও চলমান রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২১ জনের দুই চোখ এবং ৪৫০ জনের এক চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে ১৭ জনের পা এবং চার জনের হাত অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা
হাসপাতাল তৈরি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, তিস্তা প্রকল্পের আশেপাশে ন্যূনতম ১২ একর জায়গা খোঁজা হচ্ছে। নীলফামারী, রংপুর এবং দিনাজপুরের মাঝামাঝি জায়গায়। তবে নীলফামারীর একটা জায়গা পেয়েছি। এটার সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটা সমীক্ষা আমরা করবো।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সায়েদুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।
এতে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২১ জনের দুই চোখ এবং ৪৫০ জনের এক চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে ১৭ জনের পা এবং চার জনের হাত অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।