আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যে আগামী নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ১ নভেম্বর থেকেও আগের নির্ধারিত দর অনুযায়ীই ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে দাম অপরিবর্তিত রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
সরকারি আদেশে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনমূলে নির্ধারিত মূল্যহার যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগামী নভেম্বর মাসের জন্যও অপরিবর্তিত রাখা হলো। অর্থাৎ, ১ নভেম্বর থেকে এই দরই কার্যকর থাকবে।
প্রেক্ষাপট ও পটভূমি: এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়লেও সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাজারে মূল্য বাড়ায়নি। এর ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়।
পরবর্তীতে বিপিসির বড় অঙ্কের লোকসান সামাল দেওয়া, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধে গত সেপ্টেম্বরে তেলের দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আগামী নভেম্বরের জন্য নতুন করে দাম না বাড়িয়ে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে।
