মাদারীপুরের শিবচরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে তার শাস্তির দাবিতে ব্যানার হাতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাইজুল ইসলাম নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করতেন তাইজুল। গত ২৫ অক্টোবর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন। পরদিন ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘটনার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, তাইজুল তাকে পানির সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে রাখতেন এবং পরবর্তীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতেন। বাধা দিলে স্বামী-সন্তানের ক্ষতির ভয় এবং জিন-ভূতের ভয় দেখাতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৭ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তীতে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে তাইজুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার বিবাহিত স্ত্রী। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, সকালে তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন এবং পরবর্তীতে বাড়িঘরে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
