বিশেষ সাক্ষাৎকার

ভালোবাসায় প্রচণ্ডরকম প্রতীক্ষা এখন দেখা যায় না

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০২ পিএম

ভালোবাসা দিবস আজ। যুগে যুগে কি ভালোবাসার রং রূপ বদলায়? ভালোবাসার রূপ কি কেবল একটিই? আমাদের সমকালীন সিনেমা নাটক আর বইপত্রে ভালোবাসা কেমন করে ধরা দিচ্ছে? এই শিল্পগুলো কি টিকে থাকবে? এমন নানান প্রশ্ন নিয়ে একাত্তরের সাথে কথা বলেছেন এ সময়ের পাঠক নন্দিত কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।

একাত্তর: ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

সাদাত হোসাইন: আপনাকেও শুভেচ্ছা।

একাত্তর: ভালোবাসা দিবস আজ, জানতে চাই আপনার লেখায় ও যাপনে ভালোবাসা কোন কোন রূপে এসে ধরা দিয়েছে?

সাদাত হোসাইন: ভালোবাসা আসলে জীবনে নানান রূপে আসে। এখনকার কথা বলি। আমি সম্প্রতি বাবা হয়েছি। কন্যার বয়স দুই বছর। কোন এক অদ্ভুত কারণে আমার লেখায় মেয়ে আর বাবার ভালোবাসার বিষয়টা অনেক অনেকবার এসেছে। আমি বিষয়টা আগে লক্ষ্য করিনি। যেমন আমার ‘আরশিনগর’ উপন্যাসে আরশি ও তার বাবার মধ্যে যে সম্পর্কের কথা আমি লিখতে চেয়েছি সেই ২০১৫ সালে, আবার গতবারের ‘স্মৃতিগন্ধা’য় পারু আর তার বাবা মহিতোষ মাষ্টারের যে সম্পর্ক সেখানেও আমি এক রকম ভালোবাসাকেই খুঁজে পেয়েছি।

ভালোবাসা বলতে আমরা হয়তো ছোট অর্থে যুগল ভালোবাসাকেই বুঝি, সেটার একটা গুরুত্বও আছে, কিন্তু আমি আমার কাজে, আমার লেখায় ও নির্মাণে ভালোবাসাকে সম্পর্কের নানান স্তরেই খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে ভালোবাসার পরিসরটা তাই একটু বড়। আমার কাছে ভালোবাসা শুধুমাত্র নারী-পুরুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাবা-মা-সন্তান, স্ত্রী, পুত্র সব সম্পর্কেই আমি ভালোবাসাকে খুঁজেছি।

image


একাত্তর: আমরা যুগলের প্রশ্নে থেকেই যদি ভালোবাসাকে একটু বুঝতে চাই। জানতে চাই, আজ থেকে বিশ, ত্রিশ বছর আগে ভালোবাসার যে রূপ ছিল, যে বহিঃপ্রকাশ ছিল, আজকের দিনে এসে কি রূপটা তেমনই আছে নাকি কিছু বদলেছে?

সাদাত হোসাইন: পাল্টেছে তো বটেই, পাল্টানোর কারণ হচ্ছে কমিউনিকেশন। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় প্রভাবক। যদি বই পড়ার কথাই বলি, আমার মা আজ থেকে কুড়ি বছর আগে একটা বই কুড়িবার পড়তেন। একটা বই যখন কেউ কুড়িবার পড়বে তখন তার ভেতর সেই বইয়ের অনুভূতি যতোটা প্রথিত হবে এখনকার সময়ে এসে টিভি দেখতে দেখতে কোন রকমে বইটা পড়ে ফেললে কি সেই অনুভূতিটা একইরকম প্রথিত হবে?

আজ থেকে কুড়ি বছর আগে যখন মাত্র একটা টেলিভিশন নাটক হতো আমাদের সেই নাটকের সংলাপ পর্যন্ত মুখস্ত হয়ে যেতো। আর এখন আমাদের কাছে এতো বেশি বিকল্প, আমরা একটা কাহিনী একটু স্লো হলেই চ্যানেল বদলে ফেলি। আমাদের কাছে অনেক বেশি কনটেন্ট থাকায় আমরা একটা বিশেষ কনটেন্টের ওপর মনোযোগ দিতে পারছি না। এই ঘটনাটা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও হয়েছে।

আগে যখন আমরা কাউকে ভালোবাসতাম তখন আমাদের সবটা সময় দিতে হতো সেই মানুষটাকে। তার সাথে একটু কথা বলার জন্য আমাদের বাঁশির সুর তুলতে হতো, চিঠি লিখতে হতো, পাখির ডাক নকল করতে হতো।

মোট কথা একটা মানুষকে আমাদের ধ্যান-জ্ঞান উজাড় করে শতভাগ মনোযোগ দিয়ে ভালোবাসতে হতো। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন একজন প্রিয় মানুষকে হাই বলতে হলে কতকিছু চিন্তা করতে হতো আর এখন নিজের পছন্দের মানুষের সাথে কত সহজে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

একাত্তর: তারমানে এই সহজ যোগাযোগ ভালোবাসার তীব্র আকাঙ্ক্ষার জায়গাটাকে একটু কমিয়ে দিচ্ছে!

সাদাত হোসাইন:কিছুটা হলেও তাই হচ্ছে। আপনি দেখেন শুধুমাত্র এই যোগাযোগ সহজ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রচণ্ডরকম প্রতীক্ষার বিষয়টা, মনোযোগ দেয়ার বিষয়টা, কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকার বিষয়টা এখন আর দেখা যায় না।

মানুষ এখন অনেক বেশি অস্থির হয়ে আছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ধরেন আপনি কাউকে ভালোবাসেন। তাকে যদি ফোন করে আপনি না পান তাহলে আপনি হয়তো অপেক্ষা না করে আরেকটা বন্ধুর সাথে কথা বললেন। এতে দোষের কিছু নেই কিন্তু অনুভূতিটা সম্ভবত কিছুটা হাল্কা হয়ে যাচ্ছে।

image


একাত্তর: আপনি একাধারে নির্মাতা ও লেখক। এবারের ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে টেলিভিশনগুলোতে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে নাটক প্রচার হবে সত্তুরের অধিক। বইমেলায়ও আসছে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে লেখা অনেক উপন্যাস। এই দুইয়ের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে? আরেকটু সহজ করে বললে, টিভি নাটক কি আমাদের অনুভূতির দুয়ারে প্রবেশ করতে পারছে নাকি বই?

সাদাত হোসাইন: একটা সময় আমাদের কালজয়ী অনেক চরিত্র ছিলো। যেমন হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী, হিমু, রুপা। শরতের পারু, দেবদাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কি আমাদের চলচ্চিত্র, নাটক বা বই কোন আইকনিক ক্যারেক্টার তৈরি করতে পারছে?

যখন কোন একটা নাটক বা সিনেমা সর্বব্যাপী জায়গা করে নিতে পারে তখন তার ক্যারেক্টার জীবিত থেকে যায় লোকমুখে। যেমন বাকের ভাইয়ের চরিত্রের কথা বলা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

আমার মনে হয় আমাদের চারপাশে এখন এতো বেশি অপশন, এতো বেশি নয়েজ যে আমরা স্থির হয়ে শিল্প নির্মাণও করতে পারছি না, পারছি না উপভোগ করতেও। সত্যি বলতে আমরা একটা বড় ট্রাঞ্জিশনাল পিরয়ডের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আসলে এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া যাচ্ছে না। সময়ই বলে দেবে আমাদের যুগে কোন কালজয়ী শিল্প এসেছিল কি-না।  এই ট্রাঞ্জিশনাল পিরয়ডটা পার হলেই বোঝা যাবে আমাদের নাটক বা উপন্যাস কিভাবে কোন রূপে টিকে থাকবে। তবে আমি সুনিশ্চিত কোন না কোন ফর্মে লেখাটা অবশ্যই টিকে থাকবে!

একাত্তর: এবারের বইমেলায় আপনাকে কিভাবে পাচ্ছি?

সাদাত হোসাইন:বইমেলায় এবার আমার দুটো উপন্যাস আসছে। একটা 'ইতি স্মৃতিগন্ধা', যেটা আমার গতবারের ‘স্মৃতিগন্ধা’ উপন্যাসের দ্বিতীয় ও শেষখণ্ড। আরেকটা আসছে অন্যপ্রকাশ থেকে ‘প্রিয়তম অসুখ সে’। 'ইতি স্মৃতিগন্ধা' এখনই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আর ‘প্রিয়তম অসুখ সে’ বইমেলার প্রথমদিন থেকেই পাওয়া যাবে।

image



একাত্তর: আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!

সাদাত হোসাইন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

 একাত্তর/এআর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা আট মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলে ও এক কিশোরসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা দুটিতে আলাদা বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার...
বরগুনা জেলা পরিষদের সদর ডাকবাংলোর তিনতলার দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর