সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংকে ধাক্কা দেয়া সেই লাল বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন দুর্ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করে। আর পুলিশ মহুয়ার মামলা গ্রহণের দুইদিন পূর্বেই সেই জিডি গ্রহণ করেছে!
তার গাড়িটি মনোরঞ্জন হাজংয়ের মোটরসাইকেলটি চাপা বা পেছন থেকে ধাক্কা দেয়নি বরং বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে মোটরসাইকেলটি ইউলুপে প্রবেশ করে গাড়ির বাঁম পাশের হেডলাইটে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ডায়েরিতে বলেছেন সেই লাল বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক। এমনকি এই ঘটনায় মনোরঞ্জন হাজংকে আসামি করে মামলা করা উচিত ছিল বলেও জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে সাঈদ হাসান। গাড়িতে আরও ছিলেন তার স্ত্রী অন্তরা সাঈদ ও বন্ধু রোয়াদ। দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা চালকসহ গাড়িটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও চালকের পিতা প্রভাবশালী হওয়ায় চাপে পড়ে সাঈদসহ গাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। একইসঙ্গে তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে আপসের চেষ্টা চালায় মহুয়া হাজংয়ের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: পুরান ঢাকায় আবারও আগুন, নিয়ন্ত্রণে ছয় ইউনিট
কিন্তু ডিএমপি সার্জেন্ট মহুয়া মামলার বিষয়ে অটল থাকায় এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পুলিশের এমন কাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশের অনেক কর্মকর্তাও বিচারপতির ছেলে বলে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ হন বলে জানা যায়।
এদিকে সমালোচনার মুখে বনানী থানা পুলিশ মহুয়া হাজংয়ের মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করলেও আসামিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে দেখান। এজাহারে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮'র ৯৮ ও ১০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম মিয়া দুর্ঘটনায় মামলাটির বিষয়ে তারা কাজ করছি এবং তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানালেও বিস্তারিত আর কিছুই বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে মোড় ঘোরার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোরঞ্জন হাজং। এসময় একটি লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর মনোরঞ্জন হাজংকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে পুলিশ। দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে।
একাত্তর/জো
