রাজধানীর ভাটারায় বাসায় আটকে রেখে এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে রাতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
শনিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ভাটারায় এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম লিজা আক্তার (১২) তার বাবার নাম রতন।
শিশুটি জানিয়েছেন, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় দুই মাস যাবত কাজ করছে সে। ঐ বাসার গৃহকর্তার নাম এজাজ ও কর্ত্রীর নাম তান্নি।
শিশুটি আরও জানিয়েছে ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা, ঠিক মতো কাজ করতে না পারা সহ বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বেধড়ক মারধর করতো গৃহকর্তী তান্নি। শুধু মারধরই নয় তার গায়ে ঢেলে দেয়া হতো গরম পানি, গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাকা দেয়া হতো।
তার সমস্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত নতুন পুরাতন চিহ্ন দেখা গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে আনার পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে বার্ণ ইউনিটে রেফার করেন। শিশুটি বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটি আরও জানিয়েছে, তাকে গত তিনদিন বাথরুমের ভেতর আটকে রাখা হয়েছিলো। তাকে কোন খাবারও খেতে দেওয়া হতো না, ট্যাপের পানি খেয়ে কোনমতে বেঁচে ছিল ঐ শিশু গৃহকর্মী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে নির্যাতনের সংবাদ ঐ ভবনের পাশের ভবন থেকে দেখতে পেয়ে ট্রিপল সংবাদ দেয় এক প্রতিবেশী। পরে ভাটারা থানার পুলিশ ঐ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হাসপাতালের শয্যায় কাতরাতে থাকা শিশুটির একটি ভিডিও একাত্তরের হাতে এসেছে। নির্যাতনের আঘাত এতোটাই ভয়াবহ যে বর্ণনা করা যায় না। ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশু লিজার সারা শরীর ও মুখে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। অনেক আঘাত থেকে গভীর ক্ষতও তৈরি হয়েছে। আঘাতের কারণে শরীরের অনেক অংশই ফুলে গেছে।
একাত্তর/এআর
