স্বাধীনতার ৫১ বছরে নানা সূচকেই এগিয়েছে দেশ। কিন্তু পিছিয়ে আছেন কিছু পেশার মানুষ। তেমনি একটি পেশার নাম গৃহকর্মী।
আইএলও বলছে, সারাদেশে ২০ লাখেরও বেশি গৃহকর্মী রয়েছে। কিন্তু, তাদের নেই কোন নির্দিষ্ট মজুরি, নেই নির্ধারিত কর্মঘণ্টা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটা এখন সময়ের দাবি। কারণ, তাদের শ্রমও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে থাকেন সবুজ তারা। এক যুগ আগে স্বামী তাকে ছেড়ে আরেকজনকে বিয়ে করেছে।
সেই থেকে অন্যের বাসায় কাজ করেই টিকে আছেন মধ্বয়স্ক এই নারী। সেই কাজেই তাদের তিনজনের বেঁচে থাকা। রোজ ৮-৯ ঘণ্টা কাজ করেও পান না ন্যায্য মজুরি।
উল্টো কাজে কোনো ভুল হলে গুণতে হয় জরিমানাও। শুনতে হয় গালমন্দ। কখনও কখনও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় গৃহকর্মীদের।
আবার, রুবিনা আক্তারের চার ছেলেমেয়ে। সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যয় মেটাতে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কাজ করেন অন্যের বাসায়। নেই সাপ্তাহিক বা মাসিক কোনো ছুটি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর হিসেব মতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে সবুজ তারা কিংবা রুবিনার মত গৃহকর্মীর সংখ্যা ছিলো বিশ লাখেরও বেশি।
এই বিশাল সংখ্যক মানুষের কাজের স্বীকৃতি, ন্যায্য মজুরি বা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কোনটাই নিশ্চিত করা যায়নি। অথচ এখন এসব নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বেসরকারি সংস্থা অক্সফাম বলছে, ২০১৫ সালে গৃহকর্মীদের জন্য একটি নীতিমালা হয়েছিলো। কিন্তু করোনায় পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। তাই সেই নীতিমালা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
আরও পড়ুন: দুইদিনে নতুন আড়াই হাজার ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে
দেশে গৃহকর্মীদের ৯০ শতাংশই নারী। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি। যাকে দুর্ভাগ্যজনক হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে গৃহকর্মীরাও হতে পারে রেমিটেন্সের অন্যতম উৎস। তবে তার আগে দরকার শ্রমের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা সে সাথে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি।
