টিপ পরায় রাজধানীতে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক নারী শিক্ষক।
শনিবার (২ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগর থানায় এ নিয়ে অভিযোগও করেন ড. লতা সমাদ্দার নামে তেজগাঁও কলেজের ওই শিক্ষক।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সেজান পয়েন্টের সামনে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি স্টার্ট বন্ধ রাখা মোটরবাইকের উপর বসে ছিলেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি ওই নারীর কপালে টিপ পরাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পিছন ফিরে গিয়ে তার আচরণের প্রতিবাদ করায় পুনরায় গালিগালাজ করে গায়ের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
শেরে বাংলা নগর থানার ডিউটি অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন খান জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। সেইসাথে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। টিপ পরিহিত ছবি দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য নারী ও পুরুষ।
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'টিপের সঙ্গে এই উপমহাদেশের অনেক প্রাচীন সম্পর্ক রয়েছে। আমি কপালে টিপ পরতে খুব ভালোবাসি। শুধু ভালোবাসাই নয়, আমি বিশ্বাস করি, টিপের সঙ্গে আমার সংস্কৃতি এবং আস্থা জড়িয়ে রয়েছে।'
বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদপাঠক নিজের টিপ পরিহিত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, 'টিপ পরবই, যত খুশি ততবার।'
ওই পুলিশকে খুঁজে বের করে তার শাস্তির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকি আক্তার বলেন, 'আমাদের দেশটা বৈচিত্র্যময় ছিল। ধীরে ধীরে একটা কট্টর অবস্থানের দিকেই ঝুকছে বাংলাদেশ। নানামাত্রিক লড়াইয়ে আমাদের থাকতে হয়। থাকতে হবেই। রাজনৈতিক লড়াই এবং সাংস্কৃতিক লড়াই সমানতালেই চালিয়ে যেতে হবে আমাদের।'
অভিনেত্রী শানুও তার টিপ পরিহিত ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, এই বাজে চর্চাকে অবদমিত করা না হলে কদিন পর টিপ পরার বিষয়টি আলাদা করে ধর্মীয় ভাবনায় ভাগ হয়ে যাবে।
শুধু নারীরাই নয়, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুরুষরাও। টিপ পরা ছবি পোস্ট করে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহী।
