রাজধানীতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরা পেটের অসুখ ডায়রিয়ার জন্য ওয়াসার পানি দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান।
এক আলোচনায় তিনি জানান, ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি থাকা এলাকাগুলোর পানি পরীক্ষা করে রোগটির কোন জীবাণু মেলেনি।
তার দাবি, ওয়াসার ৯৫ ভাগ পানি সরাসরি পানের উপযোগী। তবে, নগরবাসীকে পানি ফুটিয়ে পান করার কথাও বলেছেন তাকসিম।
গেলো মার্চের মাঝামাঝি থেকে ঢাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়া। ৬০ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয় আইসিডিডিআরবিতে।
মার্চে শুরু হওয়া ডায়রিয়ার সেই প্রাদুর্ভাব আছে চলতি মাসেও। সোমবারও মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে একদিনে রেকর্ড ১৩ শ’ ৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
পানিবাহিত এই রোগের উৎস খুঁজতে গেলে প্রথমেই আসে ওয়াসার নাম। ঢাকায় খাবারের পানি সরবরাহ করে থাকে ওয়াসা। প্রতিষ্ঠানটির পানির মান নিয়ে আছে বিস্তর অভিযোগ।
ওয়াসার সরবরাহ লাইনে ময়লা-আবর্জনা থাকা এবং ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসার কথা বলা হয় সবার আগে। আর এসব অভিযোগ অনেক দিনের।
যদিও, মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংলাপে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করলেন, চলমান ডায়রিয়া পরিস্থিতির জন্য ওয়াসার পানি দায়ী নয়। কারণ ঢাকার দশটি এলাকার পানি ল্যাবে পরীক্ষা করে ডায়রিয়ার জীবাণু পাওয়া যায়নি।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও দাবি করছেন, ওয়াসার সরবরাহ করা ৯৫ ভাগ পানিই সরাসরি পানের উপযোগী।
কিন্তু, অনেক সময় লাইনে লিকেজ থাকা কিংবা বাসাবাড়ির পানির ট্যাংক পরিষ্কার না থাকায় পানি দূষিত হতে পারে। তাই, লাইনের পানি অবশ্যই ফুটিয়ে পান করতে হবে।
আরও পড়ুন: চলতি মাসেই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল
গরম আসার পর রাজধানীর বাড্ডা, শাজাহানপুরসহ অনেক এলাকাতেই বিচ্ছিন্নভাবে পানি সংকট চলছে।
যদিও ওয়াসা দাবি করছে রাজধানীতে পানির কোনো সংকট নেই। দৈনিক ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা নাকি ২৭০ কোটি লিটার।
একাত্তর/আরএ
