মহামারী করোনার তীব্র সংক্রমণে গত দুইবছর ঢাকার ঈদ জামাত সীমিতছিল চার দেয়ালের ভেতর,কোলাকুলিতেও ছিল মানা, সংক্রমণকমে আসায় এবার ঈদফিরছে উৎসবের পুরনো মেজাজে।
রাত পোহালেই ঈদ। এরইমধ্যে প্রায় এককোটি ঢাকা ছেড়ে গেছে যার যার নাড়ির টানে। সকালে ঈদকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি পর্বও সেরে ফেলেছে বাংলার এই রাজধানী। রাজধানীতে ঈদগাহ ওমসজিদ মিলিয়ে ১ হাজার ৪৬৮টিঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে পুলিশকমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
দুইবছর পর এবার ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতটি হবে সকাল ৮টায়ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ,কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই জামাতে নামাজপড়বেন ঈদের সকালে। মহামারীরকারণে গেল চারটি ঈদেঈদগাহ ছিল আয়োজনশূন্য।
ইতোমধ্যেঈদ জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতকরা হয়েছে হাই কোর্ট সংলগ্নজাতীয় ঈদগাহ মাঠ। ঢাকা দক্ষিণসিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলেনূর তাপস শনিবার সবপ্রস্তুতি ঘুরে দেখেন।
একসাথে৩৫ হাজার মানুষ ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়তে পারবেন জানিয়েমেয়র বলেন, “সব আয়োজন আমরাসম্পন্ন করেছি। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।চারিদিকে সাজ সাজ রব।
“প্রধানঈদ জামাতের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এরমাধ্যমে আমরা একটি সুন্দরও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করছি, যাতে ঢাকাবাসী জাতীয়ঈদগাহে এসে ঈদের প্রধানজামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।”
জাতীয়ঈদগাহের ঈদ জামাত ঘিরেনিরাপত্তার বন্দোবস্তুও সারা হয়েছে। রোববারর্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকার পুলিশকমিশনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্য়বেক্ষণ করেন।

এদিকে, জাতীয় মসজিদ ঢাকার বায়তুলমোকাররমে বরাবরের মতো এবারও রোজারঈদে পাঁচটি জামাত হবে; প্রথম জামাতশুরু হবে সকাল ৭টায়।তাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজমুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
এরপরসকাল ৮টা, সকাল ৯টা,সকাল ১০টা এবং বেলা১০টা ৪৫ মিনিটে আরওচারটি জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে।
আবহাওয়াপ্রতিকূল হলে জাতীয় ঈদগাহেরবদলে প্রধান ঈদ জামাত হবেবায়তুল মোকাররমে।
এছাড়াও রাজধানীতেঈদগাহ ও মসজিদ মিলিয়ে১ হাজার ৪৬৮টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিতহবে বলে পুলিশ কমিশনারমুহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
আজিমপুরছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতঅনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে৭টায়।
ধানমণ্ডিরএলিফ্যান্ট রোডের তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়,ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকালসাড়ে ৮টায়, ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায়এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকালসাড়ে ৮টায় ঈদ জামাতহবে।
তাকওয়ামসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানধানমণ্ডি থানার ওসি মো. ইকরামআলী।
পুরানঢাকার লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল৮টা ও ৯টায় দুটিজামাত হবে।
আজিমপুরকবরস্থান মসজিদে সকাল ৮টা থেকেশুরু হয়ে চারটি জামাতহবে।
ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিতহবে। প্রথমটি সকাল ৮টায় এবংদ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়।
বিশ্ববিদ্যালয়েরসলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল৮টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহহল জামে মসজিদে সকালসাড়ে ৮টায় এবং ফজলুল হকমুসলিম হলের পূর্ব পাশেরমাঠে সকাল ৮টায় জামাতঅনুষ্ঠিত হবে।
আজিমপুরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদেসকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সকালসোয়া ৭টায় বুয়েটের খেলারমাঠে ঈদ জামাত হবে।
সংসদভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত হবেসকাল সাড়ে ৮টায়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ,মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ-সদস্য ওসংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিরা এই জামাতে অংশনেবেন।
গুলশানসেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টায়, সকালসাড়ে ৭টায় এবং ৯টায়হবে তিনটি ঈদ জামাত।
বসুন্ধরাআবাসিক এলাকার মারকাজুল ফিকহিল ইসলামী মসজিদে সকাল ৭টায়, সিব্লকের উম্মে কুলসুম জামে মসজিদ সকালসোয়া ৭টায়, এফ ব্লকের জামেমসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়,জি ব্লকের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ সকাল৮টায়, এন ব্লকের ফকিহুলমিল্লাত জামে মসজিদে সকালসাড়ে ৮টায় হবে ঈদেরজামাত।
আরামবাগদেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৮টা এবংসাড়ে ৯টায় দুটি ঈদজামাত হবে।
দারুসসালামের মাদবর বাড়ি জামে মসজিদেসকাল সাড়ে ৭টা এবংসকাল ৯টায় দুটি জামাতহবে। মিরপুর ১২ নম্বরে হারুনমোল্লাহ ঈদগাহে ঈদের জামাত হবেসকাল সাড়ে ৭টায়।

এদিকে ধানমন্ডিবাসীদের জন্য এবার ঈদের চমক কলাবাগানের তেঁতুলতলামাঠ। ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করাহচ্ছে রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটিকে। ঈদের দিন সকালআটটায় ওই মাঠে ঈদেরনামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এলাকাবাসীর পক্ষেওই ঈদের জামাতের আয়োজনকরছেন উত্তর ধানমন্ডি মসজিদ কমিটি।
সোমবারদুপুর ১২টার দিকে তেঁতুলতলা মাঠেগিয়ে দেখা গেছে, মাঠেরসামনে টাঙানো হয়েছে বড় একটি সাইনবোর্ড।তাতে লেখা, সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।ঈদের জামাত হবে সকাল আটটায়।মাঠে কোনো নির্মাণসামগ্রী নেই।পরিষ্কার করা হয়েছে ময়লা-আবর্জনাও। প্যান্ডেল করার জন্য বাঁশেরঅবকাঠামো নির্মাণের কাজও শেষ। এখনশুধু কাপড় টাঙানো বাকি।
মাঠেঈদের জামাত আয়োজনের কার্যক্রমের তদারক করছিলেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। এরমধ্যে ছিলেন তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষায় আন্দোলনকারীসৈয়দা রত্না, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ করিমসহ অন্যরা।
একাত্তর/এসএ
